
মো: ফখর উদ্দিন, ষ্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর গুলশানে সাবেক এমপির বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদ এখন সারা নোয়াখালীজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের এক রিকশাচালক পরিবারে জন্ম নেওয়া রিয়াদের জীবনে হঠাৎ পরিবর্তনের পর বিস্ময়ে হতবাক এলাকাবাসী।
শুধু কথা নয়, দৃশ্যমান সেই পরিবর্তন—পাকা দালান, দামি গাড়ি, ঈদে কোরবানির গরু, অভাবি পরিবারে এতোকিছুর উৎস কী?
স্থানীয়দের প্রশ্ন—‘আলাদিনের চেরাগ পেয়েছে নাকি?’
রিয়াদের পিতৃপরিচয় একজন দিনমজুর ও রিকশাচালক। মা অন্যের বাসায় কাজ করতেন। অভাব-অনটনের সংসারে কঠিন পরিশ্রমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া রিয়াদ একসময় জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। প্রথমে ছাত্রলীগ, পরে মির্জা কাদেরের অনুসারী হয়ে ক্যাডার বাহিনীতে নাম লেখান।
রাজনীতি ও আন্দোলনের আড়ালে ধীরে ধীরে নিজের ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়কে ঢাল বানিয়ে শুরু করেন ভয়ঙ্কর চাঁদাবাজি।
জানা গেছে, ৫ আগস্টের পরই পরিবারে হঠাৎ অর্থবন্যা শুরু হয়। পুরোনো ভাঙা ঘরের পাশে শুরু হয় পাকা দালান নির্মাণ। গাড়ি কেনা, ব্যয়বহুল জীবনযাপন—সবকিছুই চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘নবীপুর হাই স্কুলের’ সাবেক সভাপতি শিহাব উদ্দিন হতবাক হয়ে বলেন, “এই ছেলেকে সবাই সাহায্য করে পড়িয়েছে। কিন্তু সে চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে যে পথে গেছে, তা আমাদের লজ্জিত করেছে।”
রিয়াদ গ্রেফতার হওয়ার পর তার মা দাবি করেন, “আমার ছেলে ষড়যন্ত্রের শিকার। সে ভালো ছিল, না খেয়ে তাকে শহরে পড়াতে পাঠিয়েছি।”
কিন্তু গ্রামের মানুষ বলছেন ভিন্ন কথা—
“যেখানে একসময় দিন এনে দিন খেত, সেখানে এখন ঢালাই করা বাড়ি, দামি গাড়ি—এতো টাকা এলো কোথা থেকে?”
ফেসবুকে রিয়াদের ছবি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে নিজের প্রভাব জাহির করতেন। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সঙ্গেও রয়েছে একাধিক ছবি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—
আর কত ‘সমন্বয়ক রিয়াদ’ সমাজের আড়ালে লুকিয়ে আছে?
তারা প্রশাসনের কাছে রিয়াদসহ সব রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় লুকিয়ে থাকা চাঁদাবাজদের দ্রুত খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।





























