
মো আনিছুর রহমান (স্টাফ রিপোর্টার) ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
পর পর তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ। তবে এখনো দাপট কমেনি কিছু বিএনপি নেতার। প্রতারণার জাল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে তারা সর্বত্র। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মো. হাবিবুর রহমানও রযেছেন।
ওই প্রতারকদের জালে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছেন অনেকে। মামলাও করেছেন। তবে পুলিশ তাদেরকে খোঁজে পাচ্ছে না। এলাকায় গিয়েও তাদেরকে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে তারা, বিদেশে পালিয়ে থেকে নানাভাবে অপকর্ম করে যাচ্ছেন।
ঢাকার সিএমএম আদালতে ওই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে গত ১৮ ফেব্রæয়ারি একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ওই মামলায় প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে বিদেশ পাঠানোর নাম করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরকারি বিরোধী লেখালেখির অভিযোগ আনা হয়।
এর মধ্যে আখাউড়ার দরুইন গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের (৪৯) বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে সম্প্রতি থানা পুলিশ তদন্ত করে। তবে পুলিশ বাড়িতে এসে মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে পায়নি। হাবিবুর রহমানের ভাইসহ অন্যান্যরা পুলিশকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ নেই। মূলত হাবিবুর রহমানের সরকারবিরোধী অপকর্মের কারণে তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না।
মামলা সূত্রে জানা যায়, এর বাদী হয়েছেন ঢাকার পল্লবী এলাকার মো. শাহজাহান চৌধুরীর ছেলে লিয়াকত আলী। বিবাদীরা হলেন, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ময়নাল হোসেনের ছেলে আবু কায়েছ, ঢাকার মিরপুরের কবির উদ্দিনের ছেলে আশিক আহম্মেদ, মৌলভীবাজারের বড়লেখার তারেক আল মাহাদী, সিলেটের ছাতকের আবু তায়্যিব, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের আবুল কালাম, চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গি বাজারের রিজভী উদ্দিন আহমেদ, কুমিল্লা দেবিদ্বারের সাজ্জাত হোসেন, আখাউড়ার দরুইন গ্রামের মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, সিলেট জালালাবাদের এনামুল হক, যশোর বাঘারপাড়ার মোহাইমিনুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ সদরের নাঈমা ইয়াছমিন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিবাদীদের কয়েকজন বাদীর পরিচিত। সেই সুবাদে আলোচনার সময় তারা জানায় যে, ইউরোপের ভিসা দিয়ে তারা লোক পাঠায়। এ অবস্থায় তারা বাদী লিয়াকত আলীকে সুইজারল্যান্ড, স্পেন অথবা ইউরোপের অন্য কোনো দেশে নিয়ে যাবে। সেখানে নিয়ে কর্মসংস্ধানেরও আশ^াস দেওয়া হয়। বিবাদী হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজন অন্যদেরকে বাদীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলে তাদেরকেও ইউরোপের ভিসা করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইউরোপের নেওয়ার কথা বলে ২০২৩ সালের শুরু থেকে লিয়াকতের কাছ থেকে প্রতারক চক্রটি দেওয়া নেওয়া শুরু করে। সর্বশেষ আগস্ট মাসে হাবিবুর রহমান ভিডিও কলে লাইনে থেকে রিজভী উদ্দিন আহমেদকে তিন লাখ টাকা দিতে বলে। এভাবে টাকা নেওয়ার পর আর লিয়াকতকে তারা বিদেশে নেয়নি।
এদিকে বিবাদীরা বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে সরকারবিরোধী কর্মকান্ড করেন বলে বাদী নিশ্চিত হতে পারেন। মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান তার দেশনেত্রী খালেদা দিয়ার সৈনিক https://www.facebook.com/KhaledaZiaMother0fDemocracy নামে একটি পেইজ পরিচালনা করেন। বিভিন্ন জনের পেইজের মধ্যে রয়েছে, তীয়তাবাদী গণতন্ত্রের ডাক, আমরা জিয়ার সৈনিক বলছি, শহীদ জিয়ার সৈনিক, শহীদ জিয়ার বাংলাদেশ, জাতীয়তাবাদের ডাক ইত্যাদি আইডি থেকে বিবাদীরা সরকারবিরোধী প্রচারণা চালায়। মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের স্রীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন বাডীতে তেমন ফোন দেয়না অনেক দিন আগে একবার ফোন দিয়ে বলেছিল তার পেইজে নাকি কমেন্টস করে হুমকি দেওয়া হয়েছে দেশে আসলে মেরে ফেলবে। আমাদের কোন টাকা পয়সা দেয়না আমার অনেক মানবেতর জীবন যাপন করছি।







































