
নির্বাচনি আইন আছে, বিধিমালাও আছে। তবে তা না মানার প্রবণতা রয়েছে তৃণমূল থেকে শীর্ষ সব পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে। পরিবেশ বাঁচাতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে যে পোস্টার এবার তার আধিক্য শহরজুড়ে কম থাকলেও অলিগলি ছেয়ে গেছে বিভিন্ন ধরনের সিনথেটিক ব্যানারে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো এখনই থামানো না গেলে অপরাধ লাগামহীন হতে পারে।
২৯ জানুয়ারি, বুধবার, সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার আয়োজনে চেয়ারে বসা নিয়ে দুই প্রার্থীর দ্বন্দ্বের জেরে শেরপুরে খুন হন জামায়াত নেতা।
প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ ও আচরণবিধি প্রতিপালনের অঙ্গীকার শিরোনামের ঐ অনুষ্ঠানে ঐ উপজেলার সর্বোচ্চ নির্বাচন কর্মকর্তার সামনেই কি আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে?
নির্বাচন আইন গণ-প্রতিনিধিত্ব আদেশ থেকে তৈরি, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫ অনুসারে এ ঘটনায় আচরণবিধির দুইটি ধারার অন্তত ৩টি উপধারার লঙ্ঘন হয়েছে। যেমন, আচরণবিধির ৬ ধারায় বলা হয়েছে, প্রচারণার ক্ষেত্রে সব প্রার্থী সমান অধিকার পাবেন এবং অন্য প্রার্থীর প্রচারণা পণ্ড ও বাধা দিতে পারবেন না। একইভাবে ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণাকালে কোন ধরনের তিক্ত ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিতে পারবে না।
শুধু শেরপুর না, ঢাকার অন্তত দুটি আসনে প্রার্থীদের প্রচারণায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টদের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনা খবর হয়েছে।
নির্বাচন বিশ্লেষক জেসমিন টুলি বলেন, এগুলো যদি না থামানো হয় একসময় দেখা যাবে যে এগুলো একদম লাগামহীন হয়ে গেছে। নির্বাচনের যে আইনশৃঙ্খলা মেনে চলার যে সবার দায় থাকে সেক্ষেত্রে কেউ আর দায়টা নিবে না। বলবে যে, সবই ত হচ্ছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ শুধু তৃণমূলে নয়, শীর্ষ নেতাদের ওপরেও আছে। বিএনপির শীর্ষ নেতার শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লাসহ একাধিক জনসভা করেছেন গভীর রাত পর্যন্ত।
কার্যত দিনের কোনভাগে জনসভা করা যাবে তা নির্ধারিত করা নেই আচরণবিধিতে, তবে বিধিমালার ১৭ ধারার ২ উপধারায় আছে, মাইক বা শব্দের মাত্রা বাড়ানো যে কোন যন্ত্রের ব্যবহার করা যাবে দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। এবং একই ধারার ১ উপধারায় নির্বাচনি এলাকায় একইসঙ্গে ৩টির অধিক মাইক বা লাউডস্পিকার ব্যবহার না করার যে বিধান রয়েছে। তা লঙ্ঘন করে চলেছেন, তারেক কিংবা শফিকুর দুই রহমানই।
জেসমিন টুলি বলেন, নাগরিকের অসুবিধা তৈরি করবে যেমন কারো ঘুমন্ত, কারো পড়াশোনা করে সেজন্য মাইককে সীমিত করা হয়েছে। বড় বড় নেতারাই আমাদের কাছে উদাহরণ হয়ে ওঠা উচিত যে তা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
এবারের প্রচারণায় যে কোন ধরনের পোস্টার নিষিদ্ধ। সাদাকালো ও নির্ধারিত মাপের হতে হবে যে কোন ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন, তবে নিষিদ্ধ কাপড় বা চট বাদে যে কোন ধরনের সিনথেটিক উপাদানে প্রস্তুত প্রচারণা সামগ্রী। কার্যত শহরজুড়ে এসব রঙিন এবং সিনথেটিক প্রচারণার ছড়াছড়ি। প্রশ্ন হলো, সেটি কোন আইনে?
এ ব্যাপারে একাধিকবার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরের বক্তব্য চাইলেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই নির্বাচন বিশ্লেষক বলছেন, সামগ্রিকভাবে নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভূমিকা হতাশা-ব্যঞ্জক।
নির্বাচন বিশ্লেষক জেসমিন টুলি বলেন, বিলবোর্ড হোক, ফেস্টুন হোক বা লিফলেট হোক সবই সাদাকালো হওয়ার কথা। একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টা লাগাতে পারবে। যাদের জন্য করা তারাই যদি আইন ভঙ্গ করে তাহলে তো এটা আইনের প্রয়োগ যে শিথিল তারই প্রমাণ হয়ে যাবে।
রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর সপ্তম ধারার ঘ উপধারায় বলা আছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রচার সামগ্রীর ক্ষতিসাধন করা অপরাধ। যদিও দেশের প্রায় সবগুলো সংসদীয় আসনে এ ধরণের অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।




































