
প্রতিবছর ভালো দাম পাওয়ায় আলু চাষ বাড়িয়ে দিয়েছেন রংপুরের কৃষকরা। তবে এবার ভালো ফলন হলেও তারা দামে হতাশ। কৃষকরা জানান, গতবারের তুলনায় এবার দ্বিগুণ আলু চাষ করা হলেও খরচের পরিমাণও বেড়েছে। শুরুতে প্রতি কেজি আলুর দাম ছিল ৩০-৩৫ টাকা। কিন্তু এখন তা কমে ১৬-১৮ টাকায় নেমে গেছে। ফলে কৃষকরা তাদের খরচও উঠাতে পারছেন না।
কৃষকরা আরও জানান, এক দোন (২৪ শতক) জমিতে আলু চাষ করতে ২৩০ কেজি বীজ ব্যবহার হয়েছে, যার বাজার মূল্য ২৫ হাজার ৩০০ টাকা। এ ছাড়া সার, কীটনাশক, স্প্রে, শ্রমিক, সেচ ও জমি ভাড়া মিলিয়ে মোট খরচ হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু ফলন বিক্রি করে এ খরচ উঠবে না বলেই হতাশ তারা।
কৃষক আরিফ আলী জানান, তিনি প্রতিবছর অন্যের জমিতে আলু চাষ করেন। কিন্তু এবারের মতো ক্ষতি তিনি আগে কখনোই দেখেননি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখন তারা সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছেন, যার কারণে কৃষকরা সঠিক দাম পাচ্ছেন না।
এদিকে খুচরা বাজারে আলুর দাম ৩০-৩৫ টাকা কেজি হলেও কৃষকের কাছ থেকে তা ১৬-১৮ টাকায় কিনে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্থভোগীরা। এক দোন জমিতে আলু উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৫০০ কেজি, যা বাজারে ২৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু কৃষকরা ১৮ হাজার ৫০০ টাকা ক্ষতিতে আছেন।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এবার আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৫৭৬ হেক্টর জমি। কিন্তু তা ছাড়িয়ে ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৩৯ হেক্টর জমি চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ লাখ ৯৯ হাজার ১৯৭ টন। তবে ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত ১২ হাজার ৫০৭ হেক্টর জমি কর্তন করা হয়েছে।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, ‘এবার আলুর উৎপাদন বেড়েছে। তাই দাম কিছুটা কমেছে। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থা আরও বাড়ানো উচিত। গত বছর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও কোল্ড স্টোরেজে অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু মাঝখানে আবার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।’
এভাবে আলুর দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা আরও হতাশ। তাদের দাবি, যদি সিন্ডিকেট বন্ধ না হয় এবং সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে আলু চাষে মানুষের আগ্রহ কমে যাবে।





























