
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় হামের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় সতর্কতা জোরদার করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ শয্যার একটি আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং বর্তমানে ৩৩৭৫ ডোজ এমআর টিকা মজুদ রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আড়াইহাজারের উচিৎপুরা ইউনিয়নের ৮ মাস বয়সী জমজ দুই শিশু এবং হাইজাদী ইউনিয়নের ৭ মাস বয়সী আরও এক শিশুকে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে ২৬ মার্চ সংশ্লিষ্ট এলাকায় আক্রান্ত শিশুদের বাড়ির আশপাশের ২০০টি বাড়িতে পরিদর্শন চালানো হয়। সর্বশেষ তথ্যে নতুন করে কোনো সম্ভাব্য রোগী পাওয়া যায়নি।
তবে সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ইতোমধ্যে প্রতিরোধমূলক নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অক্সিজেন সুবিধাসহ আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জটিল রোগীদের দ্রুত ঢাকার বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্যও প্রস্তুতি রয়েছে।
এ ছাড়া উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য সহকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামের লক্ষণ শনাক্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক রোগী পাওয়া গেলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাতে বলা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সন্দেহজনক রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার মহাখালীর আইপিএইচে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে বলেও জানায় স্বাস্থ্য বিভাগ। পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে আগত রোগীদের হামের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, তিন থেকে চার দিনের জ্বরের সঙ্গে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও চোখ লাল হওয়া হামের লক্ষণ হতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শ্বাসকষ্ট, খিচুনি বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, দেশে হামের বিস্তার ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় ইতোমধ্যে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আড়াইহাজার তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এখানে পরে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।
এদিকে, এখনো কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত না হলেও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি ধরে রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং সময়মতো টিকাদানই পারে শিশুদের এ সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে।



























