
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি শামীম (৩০)-কে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের রাইনাদী কলাগাছিয়া গ্রামে।
আসামি শামীম হাইজাদী ইউনিয়নের আফরদী গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত সাড়ে ১১টার দিকে শামীম একটি অটোরিকশা ছিনতাই করতে গেলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। শামীম পালিয়ে টোটারবাগ গ্রামের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে সিএনজি-চালিত অটোরিকশায় থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
তবে টোটারবাগ মসজিদের সামনে পৌঁছালে শতাধিক জনতা শামীমকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ বাধা দিলে উত্তেজিত জনতার সঙ্গে সংঘর্ষ ও ধস্তাধস্তি হয়।
সংঘর্ষে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম, এসআই আসাদুজ্জামান এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মামুন আহত হন। পাশাপাশি শামীমসহ আরও দুজন আহত হয়েছেন। উত্তেজিত জনতা পুলিশের ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও ভাঙচুর করে।
আহত শামীমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, সম্প্রতি এলাকায় চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, পুলিশের হাতে তুলে দিলে অপরাধীর সঠিক বিচার হবে না, এমন ধারণা থেকেই তারা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন জানান, “আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে পুলিশ বাধা দেয়, এতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আমাদের তিনজন পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন। আসামি শামীমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “গণপিটুনি কিংবা পুলিশের সিএনজি ভাঙচুরের ঘটনায় কোনো নিরীহ গ্রামবাসীকে হয়রানি করা হবে না। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”





























