
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিনিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো—প্রবাদটি যেন কাল হয়ে দাঁড়ালো কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে বিপ্লব (২৮) নামে এক যুবকের জীবনে। পরিবারসূত্রে জানা যায়, জনস্বার্থে নিজ উদ্যোগে রাস্তা মেরামত করেছিলেন এই যুবক। আশা ছিল সহকর্মী চালকদের কাছ থেকে সামান্য কিছু পারিশ্রমিক পাবেন। কিন্তু সেই ৫ থেকে ১০ টাকাই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিলো তার প্রাণ। দুই শিশু সন্তানের মাথার ওপর থেকে সরে গেল বাবার ছায়া। ঘটনাটি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার কৈলাগ ইউনিয়নের। নিহত যুবক ইউনিয়নের ব্যাপারী পাড়ার খোকন মিয়ার ছেলে। জানা যায়, এলাকার চলাচলের অনুপযোগী একটি রাস্তায় নিজ উদ্যোগে মাটি ও বালু ফেলে চলাচলের যোগ্য করে তুলেছিলেন তিনি। মেরামত বাবদ যাতায়াতকারী অটোরিক্সাগুলো থেকে ৫ থেকে ১০ টাকা করে পারিশ্রমিক চাইছিলেন তিনি। পরিবারের দাবি, এই সামান্য টাকা দাবি করা নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন একই এলাকার অন্য আরেকজন চালকের সাথে। তুচ্ছ এই ঘটনার জেরে ক্ষোভ জমা ছিল প্রতিপক্ষের মনে। পরিবারের সদস্যরা জানায়, এ ঘটনার জেরে ১৯ এপ্রিল (রোববার) দুপুরের দিকে ইউনিয়নের রাহেলা গ্রামের কিছু যুবক তাকে মারধর করে। বিকেলের দিকে আবার অটোরিক্সা নিয়ে বের হলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। সন্ধ্যার পর ইউনিয়নের বাংলাবাজার একটি গ্যারেজে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি, একা পেয়ে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয় তার উপর। পরবর্তীতে একটি গ্যারেজ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, নিহত যুবক ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে শুধু একটি প্রাণ ঝরে যায়নি, অন্ধকার নেমে এসেছে একটি সাজানো সংসারে। তার রেখে যাওয়া চার বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান এবং কোলে থাকা দুগ্ধপোষ্য পুত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। বাবার অপেক্ষায় থাকা এই অবুঝ শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে কৈলাগের বাতাস। সচেতন মানুষ মনে করেন, সামান্য কয়েক টাকার জন্য একজন মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার এই বর্বরতা স্তব্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসীকে। বাজিতপুর থানায় এ নিয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অফিসার ইনচার্জ শহিদুল্লাহ জানান, পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। স্বজনদের দাবি, দ্রুত যেন এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।




























