
বাংলাদেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়ক বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিএসএ)। এক শোকবার্তায় সংগঠনটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং দেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানায়।
শোকবার্তায় বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রনায়কসুলভ উত্তরাধিকার সাহস, দৃঢ়তা ও রূপান্তরমূলক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শুধু নারীদের জন্য রাজনীতির দ্বার উন্মুক্ত করেননি, বরং শিক্ষা, নীতি প্রণয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়নের প্রশ্নে রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।
কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বিশেষভাবে তাঁর শিক্ষা খাতে অবদানকে স্মরণ করে। বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা, মেয়েদের শিক্ষা বিস্তারে কার্যকর পদক্ষেপ, শিক্ষা খাতে অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং তরুণদের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বদলে দিয়েছেন। এসব উদ্যোগ আজও বাংলাদেশের সামাজিক অগ্রগতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে বলে শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়।
শোকবার্তায় আরও বলা হয়, বাংলাদেশের এই জাতীয় শোকের মুহূর্ত কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষার্থী সমাজের মাঝেও গভীরভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণ শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কের বিদায় নয়, বরং এমন এক নেত্রীর প্রস্থান, যার প্রভাব আজও শ্রেণিকক্ষ, ক্যাম্পাস ও কর্মক্ষেত্রে তরুণদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত ভিপি শেখ রিফাদ মাহমুদ বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এমন একজন নেতা, যিনি শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর নেওয়া সংস্কার ও নীতিগত উদ্যোগ বাংলাদেশের অসংখ্য দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের সন্তানদের জন্য শিক্ষার পথ উন্মুক্ত করেছে। আজ বাংলাদেশ ও কমনওয়েলথজুড়ে যে তরুণ প্রজন্ম নেতৃত্বের ভূমিকায় এগিয়ে আসছে, তার পেছনে তাঁর অবদান গভীরভাবে স্মরণীয়।”
তিনি আরও বলেন, “কমনওয়েলথের ৫৬টি দেশের শিক্ষার্থী সংগঠন ও যুব নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে আমরা এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জনগণের পাশে সংহতি প্রকাশ করছি। আমরা তাঁর স্মৃতিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে ধারণ করছি এবং শিক্ষা, যুব নেতৃত্ব ও মানবিক মর্যাদার যে আদর্শ তিনি রেখে গেছেন, তা বাস্তবায়নে নতুন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হচ্ছি।”
শোকবার্তার শেষাংশে কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং শোকাহত পরিবারসহ সমগ্র জাতির প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়। একই সঙ্গে প্রার্থনা জানানো হয় আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং এই শোকের সময়ে সবাইকে ধৈর্য ও শক্তি দান করেন।






































