
মো আনিছুর রহমান (স্টাফ রিপোর্টার) ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ছয়টি গ্রাম নিয়ে আরো একটি নতুন ইউনিয়ন গঠনের বিষয়ে গতকাল বুধবার গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বরিশল ঈদগাহ মাঠের ওই গণশুনানিতে ছয় গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয়। গণশুনানি শেষে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ এ বিষয়ে 'পজেটিভলি'এগুনোর বিষয়ে আশ্বস্থ করেন।
প্রস্তাবিত ওই ইউনিয়নের নাম ‘বরিশল ইউনিয়ন’, যেটি আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। আখাউড়ায় বর্তমানে পাঁচটি ইউনিয়ন রয়েছে। নতুন একটি যোগ হলে ইউনিয়ন সংখ্যা হবে ছয়। যে ছয়টি গ্রাম নিয়ে ইউনিয়ন সেগুলো আখাউড়া উপজেলা লাগোয়া। ভৌগলিক কারণে আখাউড়ার সঙ্গেই ওই ছয় গ্রামের মানুষের যোগাযোগ সহজ।
নতুন ইউনিয়ন গঠনের জন্য প্রস্তাব করা গ্রামের নামগুলো হলো, বরিশল, বৈষ্ণবপুর, কোড্ডা, কোড়াবাড়ি, শ্যামনগর, চান্দি। এসব গ্রাম বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসুদেব ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। ওই ইউনিয়নে বর্তমানে ১৬টি গ্রাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ নিয়ে স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে ছয় গ্রাম মিলিয়ে ‘বরিশল ইউনিয়ন’ গঠন করে এটিকে আখাউড়া উপজেলায অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করেন জেলা বিএনপি’র সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ি কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। বরিশল গ্রামের বাসিন্দা কবীর আহমেদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় উদ্যোগ গ্রহন করেছে। আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই দিনই মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব মো. সামিউল মাসুদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসককে দেওয়া চিঠিতে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্য়ালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার সহকারি পরিচলাক মো. শরীফুল ইসলাম ৩০ মার্চ আরেক চিঠিতে এ বিষয়ে ২ এপ্রিলের মধ্যে তদন্তপূর্বক মতামত প্রতিবেদন দিতে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) চিঠি দেন। এরই প্রেক্ষিতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন কিংবা কসবার গোপীনাথপুরকে আখাউড়ার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ওই ইউনিয়নকে আখাউড়ার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত না করার দাবি জানিয়েছে উপজেলা বিএনপি’র একটি পক্ষ। গত সোমবার সড়ক বাজার এলাকায় মানববন্ধন থেকে জানানো হয়, আখাউড়াতে এমনিতেই জনসংখ্যার চাপ বেশি। যে কারণে নতুন আরেকটি ইউনিয়ন হলে ভারসাম্য রক্ষা হবে না। জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মুনসুর মিশন, সাবেক সহ-সভাপতি খন্দকার মো. বিল্লাল হোসেন, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য নাসির উদ্দিন হাজারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এতে অংশ নেন।
রবিবার রাতে আখাউড়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি জয়নাল আবেদীন আব্দু, সাধারন সম্পাদক ডা. খোরশেদ আলম ভূঁইয়া, পৌর বিএনপি’র সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া, সাধারন সম্পাদক মো. আক্তার খান এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, বিএনপি’র নামধারী কয়েকজন নেতা জামায়াতের আমীরের সঙ্গে সভা করে সরকারের জনস্বার্থমূলক কাজ বাধাগ্রস্থ করার পায়তারা করছেন। বিবৃতিতে প্রশাসনিক বিন্যাস, ভোটের সমতা আনয়নের জন্য আখাউড়া উপজেলায় কমপক্ষে আরো দু’টি ইউনিয়নকে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়। পাশাপাশি বিরোধীতাকারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয় বিবৃতিতে।
গণশুনানিতে অংশ নেওয়া মো. সালাউদ্দিন বলেন, 'শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে সব বিষয়ে আমাদের সম্পর্ক আখাউড়ার সঙ্গে। আখাউড়া যেতে আমাদের লাগে দুই থেকে তিন মিনিট। আর জেলা সদরে যেতে লাগে এক ঘন্টা। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়ে দাবি জানিয়ে আসতেছি। এখন লিখিত আবেদন করা হয়েছে।'
এ বিষয়ে লন্ডনে অবস্থানরত কবীর আহমেদ ভূঁইয়া মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে ছয়টি গ্রামকে নিয়ে ইউনিয়ন করার আবেদন করা হয়েছে সেখানকার মানুষের সামাজিকতা, রাজনীতি সবই আগে থেকে আখাউড়া কেন্দ্রিক। কিন্তু কাগজে কলমে জেলা সদরের সাথে যুক্ত থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা ও বিভিন্ন কারণে সেখানকার মানুষ সুবিধাবঞ্চিত ছিলো। ওইসব গ্রামের মানুষের চাহিদার কথা চিন্তা করে আমি নতুন ইউনিয়ন করা ও এটিকে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য আবেদন করেছি। এতে অবহেলিত এলাকার মানুষের অনেক উপকার হবে।’
বিএনপি নেতা খন্দকার মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আখাউড়া উপজেলা এমনিতেই জনবহুল। এখানে জনসংখ্যা আগে থেকেই অনেক বেশি। নতুন ইউনিয়ন যুক্ত হলে জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা হবে না। তাই আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই এ ধরণের কোনো সিদ্ধান্ত যেন না নেওয়া হয়।’
গণশুনানি শেষে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, 'আখাউড়ার সঙ্গে যারা যেতে চায় তাদের কথা শুনেছি। তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য বিষয়ে তাদের সুবিধার বিষয়টি দেখলাম। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'




























