
পি. কে রায়, বিশেষ প্রতিনিধিঃ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের দূর্গাডাঙ্গা, মহলবাড়ি ও মুকুন্দপুর গ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির আয়োজনে সাওতাঁল বিদ্রোহ দিবস উদযাপিত হয়েছে।
সোমবার (৩০ জুন) সকালে দূর্গাডাঙ্গা মহলবাড়ির শস্বান কুড়ী মাঠ প্রাঙ্গনে ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরেন্দ্র নাথ রায় এবং অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দিলিপ কুমার রায়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সাওতাঁল বিদ্রোহ দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি মন্টু কিসকু, সাধারণ সম্পাদক চপ্পল সরেন, ছাদেক মুর্মুসহ আদিবাসী সমিতির সাঁওতাল নেতাকর্মীবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সাঁওতাল বিদ্রোহসহ সাঁওতাল সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠা সংগ্রামের সকল শহিদ স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে ছিলো সাঁওতাল নৃত্য পরিবেশন, আলোচনা সভা।
বক্তারা সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট, এর গুরুত্ব এবং বর্তমান সময়ে সাঁওতালদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।
তারা বলেন, "সিধু-কানু, চাঁদ-ভৈরবীর নেতৃত্বে সংগঠিত এই বিদ্রোহ ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে শোষিত মানুষের এক সাহসী প্রতিবাদ"।
এই বিদ্রোহ একদিকে যেমন ব্রিটিশদের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল, তেমনি স্থানীয় জমিদার ও মহাজনদের জুলুম থেকেও মুক্তির পথ দেখিয়েছিল।
যদিও বিদ্রোহ সফল হয়নি, তবে এটি পরবর্তীকালে বহু কৃষক ও আদিবাসী বিদ্রোহের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। আলোচনা সভায় সাঁওতালদের ভূমি অধিকারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
শেষে তীর-ধনুক নিক্ষেপ ও অন্যান্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও জমিদার-মহাজনদের শোষণের বিরুদ্ধে সাঁওতালদের ঐতিহাসিক বিদ্রোহের স্মরণে প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।





























