
আরফাত হোসেন- বিশেষ প্রতিনিধি:
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবজি ভান্ডার নামে খ্যাত শঙ্খ নদীর উভয় পাড়ে চলতি মৌসুমে ব্যাপক হারে ব্রকলি (রঙ্গিন ফুলকপি) ব্যাপক চাষাবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় এবং দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকেরা বেজায় খুশি।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবজি ভান্ডার নামে খ্যাত শঙ্খ নদীর উভয় পাড়ে চলতি মৌসুমে ব্যাপক হারে ব্রকলি (রঙ্গিন ফুলকপি) সবজির চাষ হয়েছে। এখানকার এক কৃষক হলেন মোজাম্মেল হক বলেছেন চলতি বছর পরীক্ষা মূলকভাবে ব্রকলি উৎপাদন শুরু করে বেশ লাভবান হয়েছেন।
ফুলকপির মতো দেখতে গাড় সবুজ, হলুদ, লাল রঙের এই সবজিতে রয়েছে বহু পুষ্টিগুণ। এবারের শীতে দোহাজারী শঙ্খের চড়ে আবু বক্কর ব্রকলি চাষ করেছেন। তাদের দেখাদেখি আরও অনেকেই শঙ্খ নদীর উভয় পাড়ে এবার ব্রকলি চাষ করেছেন। আবু বক্কর বলেছেন, ‘তিনি এবং মোজাম্মেল হক পরীক্ষা মূলকভাবে ১ হাজার ৬৫০ টাকা দিয়ে ১ প্যাকেট করে ৫০ গ্রামের ব্রকলি ব্রিজ কিনেন। প্রতিটি প্যাকেটে প্রায় ১২ হাজার বিচি রয়েছে বলে জানান তারা। ব্রিজ রোপন করে ২ মাসের মাথায় ফলন তথা ব্রকলি বিক্রি করা যাচ্ছে। সাদা ফুলকপির দাম কমে যাওয়ায় তারা বিদেশি এ ব্রকলির চাষ শুরু করে লাভবান হয়েছে বলে জানান। তাছাড়া সাদা ফুলকপি পুষ্টিগুণ পেতে ৩ মাস সময় লাগে।
অপরদিকে, ব্রকলি প্রথমবার ফলন তুলে ফেলার পর পুনরায় একইগাছে আবার ব্রকলি ফলন হয়। মানুষ যে কয়দিন থাকেন সে কয়দিন নতুন নতুন সবজির স্বাদ নিতে পছন্দ করেন। মানুষের মুখে যদি ভালো লাগে এবং পুষ্টিগুণ সম্পর্কে যদি ইতিবাচক ফলাফল পান, তাহলে ঐ সবজি সংগ্রহ করে মানুষ খেতে পছন্দ করেন। ব্রকলির ফলন ভালো হওয়ায় এখন দোহাজারী সবজি মাঠে অনেকে ব্রকলি চাষের দিকে এগিয়ে এসেছেন। যেখানে সাদা ফুলকপি ২০-৩০ টাকায় কেজি বিক্রি হয়, সেখানে ব্রকলি প্রতি পিচ ৭৫-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রকলি দেখতে যেমন সুন্দর, রং বেরং এর খেতেও তেমন সুস্বাদু।
আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে দোহাজারীসহ চন্দনাইশের বিভিন্ন এলাকায় ব্রকলি চাষ করবেন কৃষকেরা। শীতের সবজি চাষের সময় অন্যান্য সবজি চাষের পাশাপাশি এবারে জমিতে ব্রকলি চাষ করেছেন। বাংলাদেশে ১০ গ্রাম ব্রকলির বীজের দাম চারশ’ টাকা। কিন্তু একই পরিমান বীজ ভারত থেকে নয়শ’ টাকায় কিনতে হয়। বীজ দুটোই জাপানের সাকাতা কোম্পানির। দেশি বীজ থেকে ৭-৮‘শ গ্রাম ওজনের ব্রকলি পাওয়া গেলেও ভারতীয় বীজ এক কেজি ২‘শ গ্রাম থেকে প্রায় দুই কেজি ওজনের ব্রকলি পাওয়া যায়। তাছাড়া ওই বীজের ব্রকলির রঙ গাঢ় ও উজ্জ্বল হয়।
পরিকল্পতিভাবে ব্রকলি চাষ করা হচ্ছে। ব্রকলি চাষে পরিমিত সার ও কীটনাশক ব্যবহার করলে ফলন ভালো হয়। ব্রকলি চাষে কৃষকদের সময় কম লাগার পাশাপাশি লাভ দ্বিগুনের বেশি হচ্ছে বলে জানান। নতুন নতুন জাতের সবজি চাষ হচ্ছে দোহাজারী সবজি মাঠে। সরকার যদি এই দিকে একটু নজর দেয়, তাহলে কৃষক তার ন্যায্য দাম পেতো, মানুষেরও পুষ্টি ঘাটতি মিটতো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আজাদ হোসেন বলেছেন চন্দনাইশ দোহাজারী শঙ্খ তীরবর্তী এলাকায় চলতি মৌসুমে বেশ কিছু কৃষক তাদের জমিতে ব্রকলির চাষ করে লাভবান হয়েছেন। ব্রকলি চাষ ইদানিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মানুষও দাম দিয়ে ব্রকলি কিনছে। এ কারণে কৃষকও লাভের মুখ দেখছে। ‘শীতকালে ক্যাপসিকাম, বেগুন, টমোটো, মরিচ ইত্যাদি সবজিতে পাতার নিচে মাকড়, জেসিড ও হোয়াইট ফ্লাই বেশি আক্রমণ করে। এটি এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে এখনও তেমন জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি।
ব্রকলির প্রচুর পুষ্টি ও ওষুধিগুণ রয়েছে। জৈব ও অজৈব উপকরণের সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমানো। ‘ব্রকলির বেশ কিছু পুষ্টিগুণ রয়েছে। কাঁচা কিংবা রান্না-যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন, মানবদেহের বেশকিছু রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে এই সবজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন: কোলেস্টেরল কমাতে, ক্যানসার প্রতিরোধে, অ্যালার্জি ও ইনফ্লামেসন কমায়। এছাড়াও এ সবজিতে ভিটামিন-সি, লুটিন ও বিটাক্যারোটিনসহ অনেক শক্তিশালী এন্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে।
ব্রকলিতে থাকা ভিটামিন এ, বিটা ক্যারোটিন, ভিটামনি বি কমপ্লেক্স ও ভিটামিন সি সবগুলো উপাদানই চোখ ভালো রাখে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তারা বেশি করে এই সবজি খেতে পারেন। এছাড়া বয়সজনিত পরিবর্তন, ত্বক সুস্থ ও সুন্দর রাখতে সর্বোপরি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রকলির দারুণ ভূমিকা রয়েছে।





























