
মোহাম্মদ আবদুর রহিম, কুমিল্লা দক্ষিণঃ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নারী সংক্রান্ত ঘটনাকে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে একাধিক বাড়িঘর দোকানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয়পক্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা ও বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মোহাম্মদ কাওসার হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা মিতু নামে এক নারীর কুমারী মেয়ের সাথে কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে মিয়াধনের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।
বৃহস্পতিবার রাতে সোনাপুর গ্রামের লোকজন আপত্তিকর অবস্থায় মিয়াধন ও ওই মেয়েকে আটক করে মারধর করে।
এ সময় পাশ্ববর্তী মাসকরা গ্রাম থেকে ওই বাড়িতে ডাকাত প্রবেশ করেছে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।
ঘোষণার জের ধরে স্থানীয়রা লাঠিসোঠা নিয়ে এগিয়ে এসে তাদেরকে আক্রমন করে।
এতে সোনাপুর গ্রামের আফতাবুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম মাসুম গুরুতর আহত হয়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
মাসকরা গ্রামে একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, এর জের ধরে শনিবার বিকেলে সোনাপুরের লোকজন একত্রিত হয়ে মাসকরা গ্রামে আক্রমন করে দুইটি দোকান ও অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাংচুর করে।
এ সময় বেশ কয়েকটি খড়ের ছিনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে মাসকরার লোকজন একত্রিত হয়ে সোনাপুর গ্রামের ছাদেক মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
এতে করে তাদের চারটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। উভয়পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়। বিকেল থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষটি রাত পর্যন্ত চলে।
খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট কাজ করে।
সংঘর্ষে ছাদেক মিয়ার পরিবারের চারটি ঘর পুড়ে যাওয়ায় বর্তমানে তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে স্থানীয়রা জানায়।
সাদেক মিয়ার ছেলে মো মিলন মিয়া বলেন, আগের একটি নারী ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাশকরা গ্রামের লোকজন শনিবার রাতে আমাদের বাড়ীতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।
এতে আমাদের পরিবারের চারটি ঘরের মূলবান সকল মালামাল, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও দুশত মন ধান পুড়ে যায়। বর্তমানে আমরা চার পরিবার খোলা আকাশের নিছে বসবাস করছি।
মাশকরা গ্রামের জামাল হোসেন বলেন, নারী সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন এই দুই গ্রামে সংঘর্ষ চলে আসছে। শনিবার সংঘর্ষে মাশকরা গ্রামে কয়েকটি দোকান, বাড়ী ঘরে আগুন দেয় সোনাপুরের লোকজন।
চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছি। কয়েকটি স্হানে আগুন জলতে থাকে ,কিন্তু ততক্ষনে সব পুড়ে যায়।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মোহাম্মদ কাওসার হোসেন বলেন, ‘সোনাপুর ও মাসকরার দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে করে কিছু বাড়িঘর পুড়ে যায়।
ভাংচুর করা হয় একাধিক ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আগুন নেভানো হয়। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি’।




























