
বিশেষ প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে কর্ণেল অলি আহমেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অভিজ্ঞতা থাকলেও কৌশলগত ভুল, সময়োচিত সিদ্ধান্তে ব্যর্থতায় অলির রাজনৈতিক বলয়ের পতন ঘটেছে। কর্ণেল অলির মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা থাকলেও রাজনৈতিক বাস্তবতায় বারবার ভুল জোট, বিতর্কিত সমঝোতা ও ব্যক্তি কেন্দ্রিক বলয়ের ওপর নির্ভরশীলতা তাঁর অবস্থানকে দুর্বল করেছে। এর বিপরীতে এম এ হাশেম রাজুর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ধৈর্য্য, কৌশলগত দূরদর্শিতার কারণে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জসিম উদ্দীন আহমদের জয় হয়েছে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান’র হাতেগড়া বিএনপির শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সংগঠননির্ভর রাজনীতির ধারাকে সামনে রেখে জসিম উদ্দিনের পক্ষে দক্ষতার সহিত কাজ করে প্রার্থীকে বিজয়ের মঞ্চে দাঁড় করিয়েছেন। এই নির্বাচনে জসিম উদ্দিনের জয় কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, এটি ছিল সুচিন্তিত কৌশল, সংগঠন পুনর্গঠন, তৃণমূল নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ের ফসল।
চট্টগ্রাম-১৪ আসন ছিল দুই ধারার রাজনীতির মুখোমুখি অবস্থান। একদিকে দীর্ঘদিনের ব্যক্তি কেন্দ্রিক প্রভাব বলয়, অন্যদিকে সংগঠন নির্ভর, কৌশলগত ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতি। এই দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়কারী এম এ হাশেম রাজু এবং কর্ণেল অলি আহমেদ। এই নির্বাচনে এম এ হাশেম রাজুর ভূমিকা ছিল নীরব কিন্তু নির্ণায়ক। তিনি প্রার্থী না থেকে রাজনৈতিক সমীকরণের প্রধান রূপকার ছিলেন। রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের পরিচয় দিয়ে বর্তমান সময়ের ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত রেখেছেন। তার সিদ্ধান্ত ছিল কৌশলগত আত্মসংযমের প্রতিফলন।
কর্ণেল অলি দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ব্যক্তিগত প্রভাব বলয়ের উপর দাঁড়িয়ে নিজস্ব রাজনৈতিক পরিসর গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে রাজনীতির চরিত্র বদলায়। জনমানস এখন ব্যক্তির চেয়ে কাঠামো, আবেগের চেয়ে ফলাফল, পরিচয়ের চেয়ে অবস্থানকে গুরুত্ব দেয়। এই নির্বাচনে সাংগঠনিক পুনর্গঠন, তৃণমূল সক্রিয়করণ, ভোট-সমীকরণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্বাচনী কৌশল প্রণয়ন করেছেন রাজু। কার্যত কর্ণেল অলির দীর্ঘদিনের বলয়কে অকার্যকর করে দেয় তার কৌশল ও জাসিম উদ্দিনের বিজয়। সরাসরি সংঘাত ছাড়া, রাজনৈতিক দক্ষতার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার উদাহরণ। কর্ণেল অলির রাজনীতির যে ঐতিহাসিক অবস্থান ছিল, তা এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কার্যত পুনর্মূল্যায়নের মুখে পড়ে।
একজন মুক্তিযোদ্ধার রাজনৈতিক অবস্থান যখন স্বাধীনতার চেতনার প্রশ্নে বিতর্কিত হয়, তখন তা শুধু দলীয় ইস্যু থাকে না, তা হয়ে ওঠে নৈতিক প্রশ্ন। এই নৈতিক বিতর্কের জবাব মিলেছে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে নয়, বরং গণরায়ের মাধ্যমে। সংগঠন কর্মী তৈরি করেন, কাঠামো নির্মাণ করেন, বিভক্ত শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। নেতৃত্ব মানে ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতা নয়, কৌশল মানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিজয় মানে সংগঠনের সমষ্টিগত সাফল্য। কর্ণেল অলির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বলয়কে ভেঙ্গে নতুন সমীকরণ প্রতিষ্ঠার নেপত্যে কে ছিলেন?





























