
কয়েক দিনের টানা দাহদাহে বিপর্যস্ত নগরজীবন। প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে দম বন্ধ হওয়া পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজধানীজুড়ে। ঘরে-বাইরে কোথাও নেই স্বস্তি। বাসের ভেতরে হাঁসফাঁস যাত্রীরা, রাস্তায় কাহিল পথচারী, আর খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ-সবাই ক্লান্ত। এমন অবস্থায় সবার একটাই অপেক্ষা, কবে নামবে স্বস্তির বৃষ্টি।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টির দেখা নেই রাজধানীতে। আবহাওয়া অফিসের যে বার্তা তাতে আজ ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনাও নেই। তবে দুপুরে তপ্ত রোদ না থাকলেও গরম ছিল অনেক। এমন গরমে অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নগরবাসী।
দুপুর ১২টার দিকে ভিক্টর বাসে করে পল্টন থেকে নতুনবাজার যাচ্ছিলেন গণমাধ্যম কর্মী সায়েদুল হক। বাড্ডা লিংক রোডে আসার পর যানজটে আটকে যায় তার গাড়ি। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ভেতরে থাকা যাত্রীরা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। হঠাৎ গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার পর এক যাত্রীকে উঠাতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন চালক ও তার সহকারী। অতিরিক্ত গরমের কারণে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন তারা।
শুধু ওই বাসটিই নয়। প্রতিটি গণপরিবহনে চিত্র এমন ভয়াবহ। অতিরিক্ত যাত্রী আর গরমে বাসের ভেতর যেন উত্তপ্ত চুল্লি। জানালা খোলা থাকলেও ঢুকছে না বাতাস। ঘামে ভিজে একাকার যাত্রীদের অনেকে সিট না পেয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। কারও হাতে পানির বোতল, কেউবা কাগজ দিয়ে বাতাস করছেন।
মাঝেমধ্যে তীব্র গরম আর ভিড়ের কারণে যাত্রীদের মধ্যে তর্কাতর্কি করতেও দেখা গেছে। ভিক্টর বাসটির এক যাত্রী বলেন, ‘তীব্র গরমের কারণে অফিসে যাওয়ার পথটাই এখন সবচেয়ে কষ্টের। বাসে উঠলেই মনে হয় এই বুঝি দম বন্ধ হয়ে যাবে।’
শুধু বাসযাত্রীই নয়, রাস্তায় থাকা পথচারীদের অবস্থাও কাহিল। মাথায় কাপড় বা ছাতা দিয়ে রোদ থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন অনেকে। তবুও তপ্ত সড়কে হাঁটতে গিয়ে কেউ কেউ বারবার থামছেন, অনেকে খুঁজছেন একটু ছায়া বা পানির ব্যবস্থা।
সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন শ্রমজীবী মানুষ। রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, ভ্যানচালক-যাদের কাজ থামানোর সুযোগ নেই, তাদের দিন কাটছে চরম কষ্টে। রোদে পুড়ে, ঘামে ভিজে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে জীবিকার তাগিদে।
মধ্যবাড্ডা এলাকায় এক নির্মাণশ্রমিক বলেন, ‘দুপুরের রোদে লোহা ধরাই যায় না, হাত পুড়ে যায়। তবুও কাজ থামানোর সুযোগ নেই, না করলে মজুরি পাব না।’
শাজাহানপুর এলাকার একটি রোস্তোরাঁয় রান্নার কাজে নিয়োজিত এক কর্মী বলেন, ‘চুলার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, এজন্য গরমটা বেশি লাগে। মাথা ঝিমঝিম করে। কিন্তু উপায় নো নেই। সংসার চালাতে হলে কাজ তো করতেই হবে।’
নতুনবাজার এলাকায় শফিকুল নামে এক রিকশাচালক বলেন, ‘রোদে রিকশা চালানো অনেক কষ্টের কাজ। মাঝে মাঝে মনে হয় মাথা ঘুরে যাচ্ছে। কিন্তু উপায় তো নেই। রিকশা না চালালে আয় হবে না।’
সেখানে থাকা আরেক রিকশাচালক কায়সার বলেন, ‘গরমে প্যাডেল চালাতে খুব কষ্ট হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই গা থেকে টপটপ করে পানি পড়ে। তাছাড়া গরমে যাত্রীও কমে গেছে। আবার রাস্তায় বের হলেই শরীরটা কেমন দুর্বল লাগে। তবুও সংসার চালানোর তাগিদে রিকশা চালাতে হয়।’
বারিধারা এলাকার এক রিকশাচালক বলেন, ‘সকাল থেকে রিকশা চালাচ্ছি। গরমের কারণে মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। আমাদের এখানে সড়কে গাছ বেশি হওয়ায় তুলনামূলক গরম কম। তারপরেও যে গরম এজন্য মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে।’
চিকিৎসকরা বলছেন, এমন গরমে পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সবাইকে বেশি করে পানি পান ও অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার জন্য যে পূর্বাভাস আবহাওয়া অধিদফতর দিয়েছে, তাতে আজ ঢাকায় বৃষ্টি হওয়ার কোনো সুখবর নেই। তবে চার বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ১৪ জেলার উপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সরকারি সংস্থাটি।
আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, লক্ষীপুর, খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের (৮টি জেলা) ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারী ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার আভাস আছে। এই সময় সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বিরাজমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে ঢাকার বৃষ্টি না হওয়ার আভাস দেওয়া হলেও ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বর্ধিত পাঁচদিন বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সরকারি সংস্থাটি।
































