
বছরে একবার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয় দেশের তিন শতাংশ মানুষকে। রোগী প্রতি গড়ে খরচ হয় ৪০ হাজার টাকা। সবচেয়ে বেশি ক্যানসার ও হৃদরোগের পেছনে। চিকিৎসা করাতে গিয়ে ৬১ ভাগ রোগীর আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা সংস্থার (বিআইডিএস) গবেষণায় উঠে এসেছে এ চিত্র।
দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে হাসপাতাল প্রায় ছয় হাজার। এসব হাসপাতালে ভর্তি রোগীর খরচ কেমন তা জানতে একটি জরিপ করেছে বিআইডিএস। বিশ্লেষণ করা হয়েছে, ১৪ হাজার ৩৯৫ মানুষের তথ্য।
এতে দেখা যায়, সরকারি হাসপাতালে বছরে গড় খরচ ২৬ হাজার টাকা হলেও বেসরকারিতে তা প্রায় ৫১ হাজার।
জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খান বলেন, স্বাস্থ্যকে যদি দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ধরা হয়, তাহলে সার্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালু করা উচিত। এতে স্বাস্থ্যের জন্য মানুষের খরচ নিজেদের আওতায় চলে আসবে। স্বাস্থ্যখাতে যদি সামান্য বাজেট বাড়ানো হয় তাহলে ইনস্যুরেনসের মাধ্যমে এ সুবিধা চালু করা যেতে পারে।
ক্যানসার চিকিৎসায় সবচেয়ে বেশি খরচ। বছরে যা প্রায় দুই লাখ ২৪ হাজার টাকা। এর পরই প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হৃদরোগের চিকিৎসায়। এ ছাড়া কিডনি ডায়ালাইসিস ও দীর্ঘমেয়াদি নানা রোগের চিকিৎসা নিতে গিয়ে আর্থিক অবস্থা শোচনীয় হয় অনেক রোগীর।
বিআইডিএসের স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক সরকার বলেন, বছরে একবার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয় দেশের তিন শতাংশ মানুষকে। রোগী প্রতি গড়ে খরচ হয় ৪০ হাজার টাকা। সবচেয়ে বেশি ক্যানসার ও হৃদরোগের পেছনে। চিকিৎসা করাতে গিয়ে ৬১ ভাগ রোগীর আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। স্বাস্থ্য খাতে খরচ কমাতে অপ্রয়োজনীয় টেস্ট পরিহার করা যেতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে চিকিৎসা ব্যয়ের ৬৪ ভাগই যায় ওষুধ কিনতে।







































