
মো কামরুল হোসেন সুমন,মনপুরাঃ ভোলার মনপুরায় জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুতের দাবিতে গত ১৪-মার্চ-২০২৬ং রোজ শনিবার ঢাকাস্থ মনপুরা উন্নয়ন ফোরাম-(DMUF) কর্তৃক বার্ষিক ইফতার ও বিদ্যুতের দাবিতে আলোচনা সভা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। এখন চার্জ ছাড়াই হবে ব্যাংকিং অপটিমা ভোলার মনপুরা উপজেলায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ চালুর বিষয়ে ঢাকাস্থ মনপুরা উন্নয়ন ফোরাম'র উদ্যোগে এ আলোচনা সভায় আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা শেষে দোয়া-মোনাজাত ও ইফতারের আয়োজন করা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত হোটেল ইম্পেরিয়াল ইন্টারন্যাশল,আব্রাহাম ফাহাদ এভিনিউ,গুলিস্তান এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মনপুরা উপজেলা শাখা'র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন আহ্ম্মেদ মোল্লার সঞ্চালনায়ঃ সভায় সভাপতিত্ব করেন,ঢাকাস্থ মনপুরা উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক,আলী জাহ্ আহমেদ মিজান। সভায় ভোলা জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুত চালু করার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। এসময় বক্তারা বলেন, মনপুরা একটি প্রাচীন দ্বীপ তাই বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপে এখনো বিদ্যুতের ছোঁয়া লাগেনি। আশ-পাশের স্বল্প বসতি অনেক বিচ্ছিন্ন চরে বিগত সময়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় দেড় লক্ষ মানুষের বসবাস মনপুরা উপজেলায় অদৃশ্য কারণে জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ এখনে পাওয়া হয়নি। কয়েক বছর আগে ৩টি ইউনিয়নে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দেওয়া হলেও তা সকল বাসিন্দা ভোগ করতে পারেনি। তাছাড়া সোলার প্যানেল কোম্পানি ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম ৩০ টাকা করে নেয় তার পরেও পায় নি সকল জনগণ। প্রতি মাসে সার্ভিস চার্জ বাবদ অতিরিক্ত ৭০ টাক করে আদায় করে বিদ্যুৎ অফিস। যা এই উপজেলার নিম্ন আয়ের বাসিন্দাদের পক্ষে বহন কর সম্ভব নয়। তাছাড়া তিনটি সোলার গ্রীডের মধ্যে দুটি প্রায় অকেজো হয়ে গেছে। বক্তারা আরও বলেন,বিদ্যুৎ না থাকায় উপজেলার শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করতে পারছে না, প্রযুক্তিগত ও নিয়মিত শিক্ষাদানে বিড়ম্বনা পোহাতে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোকে। সরকারি কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। এতে বাসিন্দারা নাগরিক সেবা পাচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন চিকিৎসা সেবা নিতে যাওয় মানুষ।বিদ্যুৎ না থাকায় উপজেলার একটি মাত্র হাসপাতালে কোন ধরনের টেস্ট করানো সম্ভব হয় না। হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুতের কারণে যথাযথ চিকিৎসা সেব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই অবস্থার অবসান চেয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে মনপুরায় জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ চালু করার দাবি জানান তারা। সভাপতির বক্তব্যে, আলী জাহ্ আহমেদ মিজান বলেন, "মনপুরায় বিদ্যুতের দাবি বহুনপুরোনো। বিদ্যুতের কারণে নামকরা এই দ্বীপে কোন প্রকারের শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি। আধুনিক যুগে এসেও শিক্ষার্থীরা ল্যাম্পপোস্ট, কুপি ও হারিকেন আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে। চিকিৎসা সেবা থেকে শুরু করে সকল নাগরিক সেবা থেবে বঞ্চিত হচ্ছেন এই উপজেলার নিরহ বাসিন্দারা। অথচ মাস খানেক আগেও আশপাশের দুটি চরে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ লাইন দেওয়া হয়েছে। সরকার তথা সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে দ্রুত মনপুরায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান তিনি।" সভার এক পর্যায়ে,সর্ব-সম্মতিক্রমে, আগামী দিনে মনপুরা উপজেলার বিদ্যুৎ,ফেরি ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করার স্বার্থে, সামাজিক সংগঠনের গঠনতন্ত্রের আলোকে,সম্মানিত উপদেষ্টা কতৃক আইনজীবী নিয়োগ ও ভোটাধিকারের ভিত্তিতে ০২ (দুই) বছরের জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ০৩(তিন) সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি প্রদান করা হয়-[বি.দ্র.আগামী ২১(একুঁশ) দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রদান করা হবে।] সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টাফ ফজলুল হক, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের উপ-পরিদর্শক মোঃ জহিরুল ইসলাম,ছাত্রদলের ঢাকা কলেজ শাখার সাবেক নেতা ফরহাদ হাসান,জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা সুমন,ঔষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে কর্মরত তারিকুল হাসান,সাংবাদিক মাসুদ পাটওয়ারী,মনপুরা উপজেলা বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি'র ছেলে ও সাবেক ছাত্রদল নেতা ফেরদৌস ও রাজউকে কর্মরত মোঃ জাফর প্রমুখসহ প্রায় দুই-শতাদিক লোক উপস্থিত ছিলেন।




























