
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা:
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের ধানঘড়া চারমাথা এলাকায় চা দোকানের আড়ালে গাঁজা বিক্রির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মাদকবিরোধী ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
জানা যায়, ধানঘড়া চারমাথা এলাকায় “বাবু” নামে এক ব্যক্তি পরিচালিত একটি চা দোকানের আড়ালে গাঁজা বিক্রির অভিযোগ তুলে দৈনিক আলোকিত সকাল পত্রিকার অনলাইন পোর্টালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের উদ্বেগ, কিশোর-তরুণদের সম্পৃক্ততা এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে কিশোর ও তরুণরা এসে ওই স্থান থেকে গাঁজা সংগ্রহ করছে, যা এলাকায় সামাজিক অবক্ষয় বাড়াচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, “এভাবে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি চলতে থাকলে আমাদের সন্তানরা বিপথে চলে যাবে। দ্রুত প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার জানান, অভিযোগটি তার নজরে এসেছে এবং সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হলে ছাড় দেওয়া হবে না।”
গাইবান্ধা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত বাবু গাইবান্ধা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সংবাদ প্রকাশের আগে প্রতিবেদক তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছেন এবং তা না দিলে তার বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখালেখি চালিয়ে যাবেন বলে হুমকি দিয়েছেন।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিক কাওছার বলেন, “আমি বাবুর সঙ্গে সরাসরি কোনো সাক্ষাৎ করিনি। পেশাগত দায়িত্ব থেকে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাই। তখন তিনি স্পষ্টভাবে বলেন—‘এই বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই।’ আমি তার সেই বক্তব্য ফোনে রেকর্ড করি এবং সংবাদেও উল্লেখ করেছি যে তিনি কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি।”
তিনি আরও বলেন, “তার করা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
সাংবাদিক কাওছার অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পর তা মুছে ফেলার জন্য বাবুর সহযোগী হিসেবে পরিচিত ফরিদুল তাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন। এতে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একদিকে মাদক বিক্রির গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ ও হুমকির ঘটনা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এলাকায় মাদকের বিস্তার আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং একই সঙ্গে স্বাধীন সাংবাদিকতাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।





























