
তপন চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি:
ঈদের তৃতীয় দিনে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে পাহাড়কন্যা বান্দরবান। আঁকাবাঁকা পথ, উঁচুনিচু সবুজ পাহাড়, মেঘ, নদী, ঝর্ণা আর জলপ্রপাতের অপরূপ মিলনস্থল এই জেলা প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণপিপাসুদের জন্য যেন এক স্বর্গরাজ্য।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে নীলাচল, মেঘলা, প্রান্তিক লেক, শৈল প্রপাত, চিম্বুকসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
স্থানীয় ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, "পর্যটন কেন্দ্রগুলো এবারে বিধিনিষেধমুক্ত হওয়ায় পর্যটকরা ভিড় জমান পাহাড়কন্যা খ্যাত অপরূপা বান্দরবানে।যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে পর্যটকরা কেউ-বা ছুটে যাচ্ছেন ঝরনার সৌন্দর্য দেখতে, কেউ-বা ছুটে যাচ্ছে সুউচ্চ পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে। জেলার মেঘলা, নীলাচল, প্রান্তিক লেক, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, নীলগিরিসহ সবগুলো দর্শনীয় স্থান এখন ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে"।
ঢাকা থেকে বান্দরবানে ঘুরতে আসা মৌমিতা বলেন, বাংলাদেশের এতো সুন্দর সুন্দর জায়গা রেখে কেনো যে আমরা বাইরে ঘুরতে যায় সেটাই বুঝতে পারিনা। বান্দরবানের ভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে অনেক ভালো লেগেছে। যদি আরো কিছুটা সময় নিতে আসতে পারতাম তাহলো আরো বেশি ভালো লাগতো।
চকরিয়া থেকে আগত তুরফা জান্নাত বলেন, নীলাচলের সবুজ-শ্যামল প্রতৃতি দেখে আমি আমার পরিবার সত্যি খুবই বিমোহিত।
নীলাচল পর্যটনকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা শফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদের তৃতীয় দিনে সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি পর্যটক এই কেন্দ্র ভ্রমণ করেছেন। দিনের বাকি সময় এই সংখ্যা ৪ হাজারে পরিণত হতে পারে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
বান্দরবান জীপ-মাইক্রোবাস চালক সমিতির লাইনম্যান মো. কামাল জানান, আজ সকাল থেকে প্রায় ৪০০টি পর্যটকবাহী জীপ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের উদ্দেশে স্টেশন ছেড়ে গেছে।
বান্দরবান টুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) ফরিদ উদ্দীন বলেন, আমরা টুরিস্ট নিয়ে কাজ করতেছি। আমাদের বান্দরবানে টুরিস্ট পয়েন্টগুলোতে প্রচুর সংখ্যাক পুলিশ অবস্থান করতেছে নিরাপত্তার জন্য পর্যটকদের। প্রত্যেকটা টুরিস্ট পয়েন্টে আমাদের পুলিশ টহল ডিউটিতে আছে।
তিনি আরো বলেন, সার্বিক নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও সাদা পোশাকে কাজ করছে। এছাড়া এই পর্যন্ত অপ্রীতিকর ঘটনার কোনো প্রকার খবর পাওয়া যায়নি। তিনি পর্যটকদের নির্বিঘ্নে চলাফেরা ও আনন্দদায়ক ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।




























