
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, ‘আমরা এনজিওগুলোর মতো না রাজনৈতিক সরকারের মতো কাজ করছি বুঝছি না। এটা কি ধরনের সরকার এখনো নির্দিষ্ট না। সব কিছু মিলে এমন সরকার বাংলাদেশে আগে কখনো আসেনি।’
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড মিলনায়তনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরবর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ শিরোনামে সেমিনার ও ইআরএফ শিক্ষাবৃত্তি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, প্রশাসনকে আরও দক্ষ হতে হবে, এটা বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষিত বেকারের সমস্যা। তরুণদের নিরাশা, যুবসমাজের বিপর্যয় হওয়া এতে আমাদের অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। এখন নতুন ভোটার তারাই ভবিষ্যৎ। বর্তমান অন্তর্বর্তী বা এনজিও সরকার হোক এই সমস্যা একদিনে সমাধান হবে না। এক বছরে সব সমাধান হবে না। আগামী নির্বাচিত সরকারের কাছে অনেক চ্যালেঞ্জ থেকে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থান না হলেও ব্যাংকে ধস নামতো, রেমিট্যান্স কমতো ফলে এক সময় সরকার ভেঙে পড়তো। সার্বিকভাবে যদি মনে করি একটা স্থিতিশীল অবস্থায় দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখছি, কিন্তু অনেক অনিশ্চয়তাও আছে। তবে ঘুরে দাঁড়ানোর কিছু কিন্তু লক্ষণ আছে। এবার জিডিপি কিছু বাড়ছে। শিল্পের কাঁচা মালের প্রবৃদ্ধি ভালো। বৈদেশিক লেনদেন স্থিতিশীল রয়েছে।
মূল্যস্ফীতি কমছে দাবি করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, যতটুকু মূল্যস্ফীতি কমার দরকার না কমেনি। তবে কিছুটা কমছে। মূল্যস্ফীতির মতো মজুরিও বেড়েছে। এটা ভালো দিক। ৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতির কোনো তাৎপর্য নেই। আমার নিজের মতো একটা সময় এসেছে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ গত বছর কম ছিল। এবার আরও কমে গেছে। কাজেই মূল্যস্ফীতি এমনিতেই কমে যাবে।
ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক দলের জানা উচিত দেশের অর্থনীতি কেমন আছে। দেশের বিনিয়োগ কেমন হয়েছে। আইএমএ’র অনেক সুপারিশ আমরা নিয়েছি। ম্যাক্রো ও মাইক্রো লেবেলে অর্থনীতির সংস্কার হয়নি। পোর্টে এখনো মালামাল একদিনে খালাস হচ্ছে না। অনেক সময় দেড় মাস পর মালামাল খালাস হচ্ছে। হয়রানি ও চাঁদাবাজি হচ্ছে। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। ইন্টেরিয়াম এনজিও দিয়ে দেশ চালাতে পারে না। এলপিজি নেই, এলএনজি নেই। কোনো পলিসিগত কাজ করেনি। তারা প্রাইভেট কোম্পানির সঙ্গে কাজ করেনি এনজিও দিয়ে কি দেশ চলবে?
এসময় অর্থ ও বাণিজ্যবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আকতার মালা, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।




































