
বিশেষ প্রতিনিধি :
ফেনীতে অটোরিকশা চালক কিশোর শান্ত কুমার সাহা হত্যা ও ছিনতাই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার যন্ত্রাংশও উদ্ধার করা হয়েছে।
মামলার বাদী কানু কুমার সাহা (৪৭), পিতা মৃত রমনী কুমার সাহা, মাতা প্রভা রানী সাহা, সাং- হকদি, থানা- ফেনী মডেল, জেলা- ফেনী। তিনি অভিযোগ করেন, গত ৮ মার্চ ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটে ফেনী মডেল থানার মধুপুর এলাকার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের লালপোল স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনের বিপরীত পাশে ঢাকা মেট্রো-প-১৩-০৪৭৪ নম্বর ট্রাকের চালক দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে তার ছেলে শান্ত কুমার সাহা (১৫)-কে ধাক্কা দিলে তার মৃত্যু ঘটে।
এ ঘটনায় ফেনী সদর মডেল থানায় মামলা নং-২৬, তারিখ ৯ মার্চ ২০২৬, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ৯৮/১০৫ ধারায় মামলা রুজু হয়।
তদন্তে নেমে ডিবি পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, ঘটনার আগে নিহত কিশোরের অটোরিকশা ও মোবাইল ছিনতাই করা হয়েছিল। এরপর ডিবির এসআই রেজোয়ানের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ ও ফেনী জেলা সাইবার সেলের সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে অভিযানে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার আল-আমীন হাসপাতালের সামনে থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা বিক্রির ৫ হাজার টাকা সহ সোহাগকে এবং ভিকটিমের মোবাইল ফোনসহ নাসিরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সোহাগের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কড়ইতলা এলাকা থেকে ইমাম উদ্দিন ইমনকে গ্রেফতার করা হয়।
ইমনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় আনোয়ারের গ্যারেজ থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার বিভিন্ন বডি পার্টস উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী ইউনিয়নের গাংচিল গ্রামের বাসিন্দা ইমাম উদ্দিন ও নাসিরের বাড়ি পাশাপাশি। নাসির ও সোহাগ চট্টগ্রামে একই বাসায় থাকতেন এবং তারা একটি অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িত। পরিকল্পনা অনুযায়ী নাসির ফোনে ইমামের সাথে যোগাযোগ করে সোহাগকে ফেনীতে পাঠায়। পরে সোহাগ নিহত শান্তের অটোরিকশা ও মোবাইল ছিনতাই করে। এরপর অটোরিকশাটি কোম্পানীগঞ্জের কড়ইতলায় এনে আনোয়ারের গ্যারেজে যন্ত্রাংশ খুলে ফেলা হয় এবং মোবাইল ফোনটি নাসিরের কাছে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত নাসিরের বিরুদ্ধে একাধিক ছিনতাই মামলা এবং সোহাগের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে ফেনী মডেল থানায় মামলা নং-২৮, তারিখ ১০ মার্চ ২০২৬, দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।





























