
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ফতুল্লা পোস্ট অফিস থেকে শিবু মার্কেট পর্যন্ত রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ৪-৫ বছর ধরে সংস্কারবিহীন পড়ে থাকা এ সড়কটি বর্তমানে প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে হাঁটাচলা কষ্টকর হয়ে পড়ে, আর সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে কাদাময় হয়ে যায় পুরো এলাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে নেই কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে জমে থাকা পানি সহজে নিষ্কাশিত হয় না। একমাত্র রোদই তখন ভরসা, যাতে পানি শুকিয়ে পথ চলার উপযোগী হয়। দিনের পর দিন এমন দুর্ভোগে চলতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
বসবাসকারী ও পথচারীরা জানান, কিছুদিন আগে পদ্মা অয়েল কোম্পানির কাজের জন্য খোঁড়াখুঁড়ির পর রাস্তার একপাশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এরপর আর কোনো সংস্থা রাস্তার সংস্কারে এগিয়ে আসেনি। যে কারণে এখন এই সড়ক একাধিক স্থানে ভয়াবহ ভাঙাচোরা হয়ে গেছে।
এ সড়কের দুই পাশে রয়েছে বহু গার্মেন্টস ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। বড় বড় কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক যাতায়াত করায় রাস্তার ক্ষয় আরও দ্রুত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর বিস্ময়, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ লোকজন এ সড়ক দিয়েই প্রতিদিন চলাফেরা করলেও এত বছরেও কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ, সদর উপজেলা পরিষদসহ একাধিক দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের পথ এটি, তবুও সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা চোখে পড়ার মতো।
জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাদের অভিযোগ, “মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে কেউ এখন আর কথা বলে না। শুধু আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতি শোনানো হয়, কাজের কাজ কিছুই হয় না।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এ সড়কের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার এবং একটি টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুতে হবে। শিল্পাঞ্চল বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, “আমরা এ সড়কটির সংস্কারের একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এটি অনুমোদন হলে দুই-তিন মাসের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।”





























