
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক তরুণ ও তরুণীকে তুলে নিয়ে মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক নারীসহ তিনজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার রাত নয়টার দিকে দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার সাহারা সিটি বালুর মাঠে ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা হলেন শামীমা খানম সোনিয়া (৪০), তৌছিফ আহম্মেদ (২০) ও সিয়াম আহম্মেদ (২০)। তাঁদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন ও নিজস্ব পেশা পরিচয়ে ব্যবহৃত একটি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সময় তাঁদের সহযোগী সোহাগ (২৫) পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী ইব্রাহিম নিঝুম ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, শনিবার সন্ধ্যায় ভূইগড় রূপায়ন টাউনের সামনে থেকে রিকশায় করে চাষাড়া যাওয়ার পথে কয়েকজন পথ আটকে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন। পরে কৌশলে তাঁকে ও তাঁর বান্ধবীকে অটোরিকশায় তুলে দাপা এলাকার বালুর মাঠে নিয়ে যান। সেখানে এক লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় তাঁদের মারধর করা হয় এবং সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
মুক্তিপণের খবর পরিবারে পৌঁছালে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি বুঝে তিনজনকে ধরে ফেলেন এবং গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
স্থানীয় কয়েকজন বলেন, এই চক্রটি বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ডিবি পরিচয়ে ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছে। পঞ্চবটি, পাগলা, তল্লা ও রুসেন হাউজিং এলাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে কয়েকটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েক জায়গায় ফ্ল্যাটে গিয়ে দম্পতিকে মারধর করে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করে তারা।
গ্রেপ্তারের পর থানায় তথ্য নিতে গেলে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সামনে পুলিশ কর্মকর্তাকে হুমকি দেন শামীমা ও তাঁর সহযোগীরা। সাংবাদিকদেরও ভয়ভীতি দেখানো হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক সোহাগকে ধরতে অভিযান চলছে।’


































