
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংকে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে দম বন্ধ হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে কাশীপুর ইউনিয়নের ভোলাইল গেদ্দার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভাংরা গ্রামের আলতাফ মৃধার ছেলে দেলোয়ার মৃধা (৩৫) এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার আব্দুর রহিমের ছেলে রানা (২২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহাবুদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের ছাদের সাটারিং খোলার কাজ চলছিল। এ সময় ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের মধ্যে প্রথমে এক শ্রমিক নামেন। তাঁর কোনো সাড়া না পেয়ে আরেকজন নিচে নামলে তিনিও অচেতন হয়ে পড়েন। পরে অন্য শ্রমিকেরা ভেতরে না নেমে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, লালন মিয়ার বাড়িতে ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল। সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা গ্যাসের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশ কাজ করছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
শহরের খানপুরে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহাদাত হোসেন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরোধেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত দেলোয়ার মৃধা পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। তাঁর দেড় বছর বয়সী সুরাইয়ান নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে রানা একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন। ছুটির দিনে দেলোয়ারের সঙ্গে কাজ করতে এসে তিনি প্রাণ হারান। চার মাস আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।




























