
ফুলবাড়ীয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্যে উফশী ও হাইব্রিড বোরো বীজ-সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন
আজিজুল ইসলাম:
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের রবি মৌসুমে বোরো ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উৎসাহিত করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিনামূল্যে উচ্চফলনশীল (উফশী) ও হাইব্রিড ধানের বীজ এবং প্রয়োজনীয় সার বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের এই প্রণোদনা কর্মসূচির ফলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং সারাদেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
গতকাল রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ হল রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি, ময়মনসিংহের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ এনামুল হক। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রেখেছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা যেন স্বল্প ব্যয়ে অধিক ফসল ফলাতে পারে, সে লক্ষ্যেই নিয়মিত বীজ ও সারসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। উফশী ও হাইব্রিড জাতের বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী মৌসুমেই উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।”
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, “কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে মাঠপর্যায়ের কৃষকরাই মূল চালিকাশক্তি। তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। সরকারের এই উদ্যোগ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকেও গতিশীল করবে।”
স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নূর মোহাম্মদ বলেন, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে লটারির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে উফশী ও হাইব্রিড বোরো ধানের মানসম্মত বীজ এবং প্রয়োজনীয় সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। এতে কৃষকদের বীজ–সার সংগ্রহের ঝামেলা কমবে এবং মৌসুমের শুরুতেই জমিতে কাজ শুরু করতে সুবিধা হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ আ. ন. ম. আতিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে কৃষকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, সরকারের এই প্রণোদনা শুধুমাত্র উৎপাদন বৃদ্ধিতেই অবদান রাখবে না, বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মাঠপর্যায়ে বীজ ও সার সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এ অঞ্চলের বোরো ধানের উৎপাদন নতুন মাত্রা অর্জন করবে।
অনুষ্ঠান শেষে উন্মুক্ত লটারিতে উত্তীর্ণ নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়।





























