
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফুলছড়ি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলন কুমার বর্মন চলতি বছরে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি উপজেলা পর্যায়ে টানা সাতবার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখার স্বীকৃতি অর্জন করেন।
১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ৩০ আগস্ট ২০১৭ সালে জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়টি ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ঘাট এলাকায় অবস্থিত। বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদী, উত্তরে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও গাইবান্ধা জেলা শহরের সংযোগ, পশ্চিমে বোনারপাড়া ডিগ্রী কলেজ এবং দক্ষিণে উদয়ন মহিলা ডিগ্রি কলেজ-এভাবে চারদিক ঘিরে রয়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের বসতি। এসব এলাকার দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের সন্তানরাই এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই বিদ্যালয়ের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা। বর্ষা ও বন্যার সময় বিদ্যালয়সহ মাঠে ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত পানি জমে যায়, যার ফলে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক ভবন না থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণ বিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় দাবি হয়ে রয়েছে।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৫৬৪ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এবং মাত্র ১২ জন শিক্ষক পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। গণিত, বিজ্ঞান ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক সংকট থাকলেও প্রধান শিক্ষক মিলন কুমার বর্মনের দক্ষ নেতৃত্ব ও কঠোর তদারকির ফলে শিক্ষার মান ও শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ৯৬ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে থাকে, যা গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকার একটি বিদ্যালয়ের জন্য বিরল উদাহরণ।
বিদ্যালয়ে নিজস্ব বিজ্ঞান ল্যাব রয়েছে। গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির পাশের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং ৭ জন শিক্ষার্থী এ প্লাস অর্জন করে। চলতি বছরে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার অগ্রগতি আরও ভালো হওয়ায় আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ৯০ শতাংশ পাশের হার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধান শিক্ষক।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মিলন কুমার বর্মন বলেন,আমাদের বিদ্যালয়টি নদী ও চরাঞ্চলবেষ্টিত হওয়ায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবুও শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। যদি একটি একাডেমিক ভবন, বাউন্ডারি ও প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে এই বিদ্যালয়টি জেলার অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন পরীক্ষিত ও সফল প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে এমন একটি সম্ভাবনাময় বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচনের এই স্বীকৃতির পর ফুলছড়ি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণসহ শিক্ষক সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এখন এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি।





























