
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
হৃদয় হত্যা এযেন আইয়েমে জাহেলিয়ার যুগকেও হারমানিয়েছে। সামান্য চুরির অপবাদ দিয়ে একটি তরতাজা প্রাণ শেষ করে দিলো মানুষ নামের অমানুষ। হাত-পা রশি দিয়ে বেধে তারপর তাকে বেধড়ক মারপিট করা হয়েছে। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায় কিছু যুবক হৃদয়কে রশি দিয়ে বেধে টেনে হিঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। তারপর কালো ছোপায় বসিয়ে মারপিট করে। এসময় তার মুখ দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ পর আবার হাত বাধা অবস্থায় রুম থেকে বের করা হয়। এসময় সে ব্যাথায় কাতরাত ছিলো। এতেও মন গলেনি পাষন্ডদের।
শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে মহানগরের কোনাবাড়ীতে অবস্থিত গ্রীনল্যান্ড লিমিটেড নামক একটি তৈরি পোশাক কারখানার ভিতরে এ ঘটনা ঘটে।
পরে শনিবার (২৮ জুন) সকালে হৃদয় এর মৃতদেহ কাপড় দ্বারা মুড়িয়ে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশ্য রওনা করে কারখানার নিরাপত্তা কর্মীরা। কারখানার শ্রমিকরা উক্ত বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে নিরাপত্তা কর্মীরা জানায় একটি চোর ধরা পড়েছিল। এসময় সে ড্রেনে পড়ে আহত হয়। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।
শনিবার (২৮ জুন) দুপুরে কারখানার সকল শ্রমিক হৃদয় হত্যার বিচার চেয়ে কারখানা থেকে বের হয়ে যায়। পরে বিসিক শিল্পনগরীর অভ্যন্তরে আশে-পাশের ফ্যাক্টরি সমূহের শ্রমিকদের উৎপাদন কাজে বাঁধা প্রদান করে। কোনাবাড়ী বিসিক এলাকায় লাইফ টেক্সটাইল ও কানিজ ফ্যাশন লিঃ ফ্যাক্টরির গেইটে গিয়ে ধাক্কা ধাক্কি করে।
পরবর্তীতে কারখানা মালিকপক্ষ ছুটি ঘোষনা না দিলে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে তুসুকা জিন্স এর সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এর উভয় লেন অবরোধ করে। পরে কোনাবাড়ী থানা ও শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের রাস্তা হতে সরে আসতে অনুরোধ জানালে শ্রমিকরা পুলিশের উপর ইট- পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ আত্নরক্ষার্থে ৬ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেডেট নিক্ষেপ করিলে শ্রমিকরা রাস্তা হইতে সরে গিয়ে বিসিক ১ নং গেইটে সমাবেত হয়। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, কোনাবাড়ী থানা ও শিল্প পুলিশ সমন্বয়ে শ্রমিকদের লাঠিচার্জ করিলে বিকেল সাড়ে চারটায় সময় শ্রমিকরা চলে যায়। পরবর্তীতে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়ক যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এঘটনায় নিহতের বড় ভাই লিটন বাদী হয়ে শনিবার রাতেই কোনাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে কুদ্দুস নগর পেয়ারা বাগান এলাকা থেকে হাসান মাহমুদ মিঠুন (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ রবিউল হাসান। এঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা। এঘটনার পর অনির্দিষ্ট কালের জন্য কারখানা বন্ধের নোটিশ সাঁটিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নিহত হৃদয় টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার শুকতার বাইদ গ্রামের আবুল কালাম এর ছেলে। সে গ্রীনল্যান্ড লিমিটেড কারখানায় ম্যাকানিক্যাল সেকশসনে কর্মরত ছিলো।







































