
মোঃ সোহরাব উদ্দিন মন্ডল
গাজীপুর
"মাদককে না বলুন, মাদক থেকে দুরে থাকুন" এমন প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই আইন শৃংখলা বাহিনীগুলোকে দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
দেশের আইন অনুযায়ী মাদক ক্রয়-বিক্রয় সহ পান বা সেবন দন্দনীয় অপরাধ।এ বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকেও সবসময়ই তৎপর থাকতে দেখা যায়।
মাদক নির্মূলে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য সবমসময়ই সাংবাদিকদের প্রশংসা করা হলেও গাজীপুরের কাশিমপুরে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।
এখানে মাদক নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা হলো ১ কোটি টাকার মিথ্যা মামলা।মামলাটি দায়ের করেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহীন মোল্লা।
যার বিরুদ্ধে স্থানীয় গার্মেন্টস ফ্যাক্টির ঝুট ব্যবসা দখল,মাদক কারবারীদের সহযোগিতাসহ প্রায়শই উঠে নানা অপকর্মের অভিযোগ।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন ঘৃন্যতম ও প্রতিহিংসা মূলক, মিথ্যা ও বানোয়াট এবং হয়রানীর উদ্দেশ্যে করা মামলার প্রতিবাদে ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলের শাহিন মোল্লার বিরুদ্ধে গতকাল গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন কাশিমপুর থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বাংলা টিভির কাশিমপুর থানা প্রতিনিধি মোঃ হাসান সরকার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কাশিমপুর থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বার্তা বাজার প্রত্রিকার প্রতিনিধি মোঃ মারুফ হোসেন।
মানববন্ধনে জনবানী পত্রিকার প্রতিনিধি মোঃ জামাল আহম্মেদ,দৈনিক আলোকিত সকাল প্রতিনিধি মোঃ সোহরাব উদ্দিন মন্ডল, আনন্দ টিভির মোস্তাকিম শিকদার রাজিব, মোঃ বিএইস সাজু,সেকেন্দার আলী, হাবিবুল বাসার সুমন, শাকিল আহম্মেদ সুজন,শাহাদাৎ হোসেন সরকার, ইউছুফ আলী খান,আরিফুল ইসলাম খান শাহীন, হাসমত , জসিম খান,মোঃ আমিনুল ইসলাম, মোঃ আরমান হোসেন, মোঃ শাহীন, মোঃ শাহ্ আলম, এস কে শুভ সহ গাজীপুর জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য,গত ০১/০২/২৪ইং তারিখ র্যাব-১ (উত্তরা) এর অভিযানে ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহীন মোল্লার গোডাউন থেকে ৯৫২ পিস ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করায় কাউন্সিলর শাহিন মোল্লা তার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং তিনি দাবি করেন উক্ত গোডাউনটি তার নয়। কিন্তু ১৩১৯৬ নং দলিলে দেখা যায় উক্ত জমিটি তার নামে দলিল করা। তিনি আরো দাবি করেন তার নামে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। তারই প্রেক্ষাপটে কাউন্সিলর শাহীন মোল্লা তিনজন সংবাদ কর্মীর নামে ১১/০২/২৪ ইং তারিখে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৪নং আদালতে এক কোটি টাকার একটি মানহানি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। যাহার মামলা নং ১৪৪/২৪।
সাংবাদিকরা বলেন,উল্লেখিত মাদক নিয়ে যে গত ০৩/০২/২৪ইং তারিখে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয় তা সত্য। কারণ উক্ত গোডাউনটির মালিক ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহিন মোল্লা ও তার স্ত্রীর নামে দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই উক্ত গোডাউনটি তার নিজের বলে প্রমাণিত হয়। মাদক জব্দের পরে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী ও অভিযানের সময় উপস্থিত কয়েকজন তাদের বক্তব্যেও বলেন, এই গোডাউনটি ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহিন মোল্লার নামে এবং সেই গোডাউন থেকে ৯৫২ পিস ফেনসিডিল উদ্ধার করে সেই সাথে চারজনকে গ্রেফতার করে র্যাব -১। আরো উল্লেখ্য যে, কাউন্সিলর হওয়ার পূর্বে তার কোন ঝুটের ব্যবসা না থাকলেও কাউন্সিলর হওয়ার পর রাতারাতি তিনি বিভিন্ন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির জুটের ব্যবসা জবরদখল করে নিজের আয়ত্তে আনেন ।
এছাড়াও জমি বিক্রয় করে জমি না বুঝিয়ে দেওয়া, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা দখল নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি, ধর্ষনের ঘটনা টাকার বিনিময়ে মিমাংসার চেষ্টা,স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া মিটিয়ে দেয়ার নামে অন্যায় সুযোগ নেয়া সহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহীন মোল্লার বিরুদ্ধে।
সাংবাদিকরা তাদের বক্তব্যে বলেন দৈনিক জনবানী পত্রিকার কাশেমপুর থানা প্রতিনিধি মো: জামাল আহম্মেদ, দৈনিক আলোকিত সকালের প্রতিনিধি মোঃ সোহরাব উদ্দিন মন্ডল, নিউজ টোয়েন্টি ওয়ান এর স্টাফ রিপোর্টার শাকিল আহমেদ সুজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান। তারা দুইদিন সময় দিয়ে বলেন ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহীন মোল্লা এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করলে আমরা আরো জোরালো আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো এবং তার বিভিন্ন অপকর্ম খতিয়ে বের করে প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরব বলেও জানান তারা।
সাংবাদিক নেতা ও কাশিমপুর থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান সরকার প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়ে উক্ত বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধী বা অপরাধীদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়ে মানববন্ধনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।





























