
> ফ্লুইড দিয়ে ঘষামাজা করে ভুয়া শিক্ষার্থী দেখানো
> মাদ্রাসার টাকায় নিজের নামে জমি ক্রয়
মোঃ হুমায়ুন কবির ক্রাইম রিপোর্টার:
গাজীপুরের শ্রীপুরে সাইটালিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মো. নাজিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
এর মধ্যে সাইটালিয়া দাখিল মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির ভোটার তালিকায় অনিয়ম থাকায় নির্বাচন স্থগিতের জন্য গত ২৯ জুলাই শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অভিভাবক সদস্য সাইফুল্লাহ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাইটালিয়া দাখিল মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটি ২০২৫ ভোটার তালিকায় অনেক ভুলভ্রান্তি রয়েছে এবং ভোটার তালিকা প্রণয়ন সঠিকভাবে করা হয়নি।
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মানসুরার অভিভাবক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমি ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হতে চেয়েছিলাম, তারা কবে গোপনে ভোটার তালিকা করেছে তা আমি জানতে পারিনি। শুনেছি আমার মতো আরও অনেকে সদস্য নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন, তাদেরকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, এজন্য ভয়ে কেউ নির্বাচন করেনি।
অভিভাবক সদস্য সাইফুল্লাহ বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে কয়েকজন বহিরাগত ভুয়া শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে, যারা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত শিক্ষার্থী নয়, তাদের অভিভাবককে ভোটার এবং কমিটির সদস্য করা হয়েছে। বিশেষ করে আফতাব আহাম্মেদ আরাফাতকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী দেখিয়ে তার বাবাকে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য করা হয়েছে। কিন্তু আফতাবের নামটি হাজিরা খাতায় ফ্লুইড দিয়ে মুছে ওভার রাইটিং করে লেখা রয়েছে এবং সে এমসি বাজার সংলগ্ন মোড়লপাড়া সোলাইমানিয়া মাদরাসার নিয়মিত শিক্ষার্থী। যা আমরা ওই শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মাদরাসার মুহতামিমের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জৈনা বাজার সংলগ্ন ব্রাইট স্কলার এর সপ্তম শ্রেণির নিয়মিত শিক্ষার্থী রেদুয়ান, যার রোল নম্বর ১৪। রেদুয়ানের পিতাকেও সাইটালিয়া দাখিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য রাখা হয়েছে।
অভিভাবক সদস্য সাইফুল্লাহ আরও বলেন, একজন নিয়মিত শিক্ষার্থীর অভিভাবক মাসুদ তাকে জানিয়েছেন, আমি নির্বাচনের মাধ্যমে সদস্য হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তাড়াহুড়া করে কবে ভোটার তালিকা করেছে এবং কমিটি করেছে, জানতে পারলাম না। এই ধরনের অভিযোগের কারণেই আমি নির্বাচন স্থগিতের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।
এছাড়াও স্থানীয় আফির উদ্দিনের নিকট মাদরাসার জমি বিক্রি করে টাকা নিয়ে থাকলেও এই জমি না দিয়ে মাদরাসা ঘরের জমি লিখে দেন, যেটা হুজুর আগেই অবৈধভাবে নিজের নামে দলিল করে রেখেছিলেন।
সার্বিক বিষয়ে সাইটালিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার নাজিম উদ্দীন বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই ভোটার তালিকা ও ম্যানেজিং কমিটি করা হয়েছে। যে দুজন শিক্ষার্থীর কথা অভিযোগে বলা হয়েছে, তাদের আমাদের এখানে রেজিস্ট্রেশন আছে। কিন্তু তারা অন্য প্রাইভেট মাদরাসায় পড়াশোনা করে, মাঝেমধ্যে আমাদের এখানে আসে। তাছাড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ ছিল, এখানে সবাই প্রার্থী হননি। আর আমার নামে জমি সংক্রান্ত অভিযোগ মোটেও সত্য নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি কেউ বিক্রি করতে পারে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে স্থানীয় আফির উদ্দিনের জমি রয়েছে। তাই আফির উদ্দিন প্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকা আরেকটি জমি ভোগদখলে আছেন।
শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ভোটার তালিকা তৈরি করা ম্যানেজিং কমিটির কাজ। এখানে আমার কিছু করণীয় নেই। যেহেতু কমিটি হয়ে গেছে আমি একটি প্রতিবেদন দিয়েছি। পরে তারা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটা যদি আগে দেওয়া হতো তাহলে নির্বাচন স্থগিত করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল। এখন তারা যদি আদালতে অভিযোগ করে তাহলে আদালত নির্বাচন স্থগিত করতে পারে।





























