
তানজিল সরকার: ভৈরব কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি।
ভৈরবে রাজা হাঁস চুরি দায়ে পিটিতে বিসাক্ত দ্রব্য খাইয়ে জনি মিয়া (১৮) নামক একব্যাক্তি কে হত্যা অভিযোগ করেন নিহতের মা।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের কালীপুর নয়াহাটি গ্রাম থেকে জনি মিয়া নামে এক মরদেহ উদ্ধার করে ভৈরব থানার পুলিশ।
নিহত জনি মিয়া (১৮) উপজেলার পৌর শহরের কালীপুর নয়াহাটী গ্রামের জয়নাল মিয়ার ছেলে। জনি মিয়া তেরপাল সেইলায়ের কাজ করতেন একই এলাকার আল-আমিন মিয়ার কারখানায়।
নিহত জনি মিয়ার মা বলেন, রাতে চুরি হওয়া রাজা হাঁস কোথায় বিক্রি করেছে তা জানতে পারে আমার ছেলে। পরে জনি সে হাঁস উদ্ধার করতে একই এলাকার হারুন মিয়া স্ত্রী কে নিয়ে ২ হাজার টাকার বিনিময়ে উদ্ধার করে। পরে হারুন মিয়ার ছেলে আল-আমিন (২৩) হাঁস চুরির অপবাদ দিয়ে জনি মিয়া কে একই এলাকার রাসেল মিয়া ছেলে জাহিদুল মিয়া(১৮), সেলিম মিয়া ছেলে আরিফ মিয়া(১৯), হাফিজউদ্দিনে ছেলে জাহের মিয়া(১৮) সহ আরও ৩জন মিলে পিটিয়ে বিসাক্ত দ্রব্য খাইয়ে দেয়। পরে বাসায় এসে বমি করতে থাকে আমার ছেলে জনি। কিছু না বুঝতে পেরে নিয়ে যাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করে উন্নত চিকিৎসার জন্যে সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল ও কলেজে স্থানান্তর করে। উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে এম্বুলেন্স করে নিয়ে যাওয়ার সময় জনি মিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে ।
তিনি আরও বলেন, আমার ছেলেকে তারা পিটিয়ে বিষাক্ত কিছু খাইয়ে হত্যা করেছে আমি এর বিচার চাই।
অভিযুক্ত আল-আমিনের মা বলেন, জনি মিয়া রাজা হাঁস চুরি করে দুই হাজার টাকা বিক্রি করে ফেলে। আমার ছেলে আল-আমিন তাকে জিজ্ঞেস করার ফলে সে উক্ত হাঁস এনে দেওয়ার জন্য টাকা নিয়ে সকালের দিকে হাঁস গুলি ফেরত দেয়। জনি বাসায় যাওয়ার পরে তার মা বলেন এতদিন নেশা খোরের মা বলত সবাই। এখন বলবে চোরের মা, তাই তুই মর না হলে আমি আত্মহত্যা করব। এর পরিপ্রেক্ষিতে জনি ঘরে থাকা ইঁদুর মারার বুলেট ট্যাবলেট খেয়ে ফেলে। তৎক্ষণাৎ আমারা শুনতে পাই জনির মায়ের চিৎকার সাথে সাথে আমার ছেলে আলামিন সহ আরও অনেকে জনিকে নিয়ে ভৈরব উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে আমারা শুনতে পাই জনি আর নেই।
তিনি আরও বলেন, জনির মায়ের সম্পূর্ন অভিযোগে ভিত্তিহীন আমার ছেলে তাকে পিটায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুরি হওয়া হাঁস উদ্ধারের পর থাকে কিছু চর-থাপ্পড় মারা হয়। কিন্তু তাকে বিষাক্ত কিছু খাওয়ানো হয়েছে কি না সেটা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারি নি ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল করিম বলেন, জনি মিয়া কে হাসপাতালে আনার পরে আমি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্যে পাঠিয়ে দেই কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল ও কলেজে।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার ফুয়াদ রুহানি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। উক্ত ময়না তদন্তের রিপোর্টের পরে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।





























