
স্টাফ রিপোর্টার শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গুয়ার হাওরের সংরক্ষিত জলাভূমিতে অবৈধভাবে মাছ ধরার জন্য ব্যবহৃত ইলেকট্রিক শক মেশিন আটক করে স্থানীয় রংচি গ্রামের সাদ্দাম হোসেনসহ কয়েকজন প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু এই সাহসী উদ্যোগ নেওয়া ব্যক্তিকেই পরে শাস্তির মুখে পড়তে হলো, যা এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে।সম্প্রতি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক সালিসি বৈঠকে সাদ্দাম হোসেনকে ১২,০০০ টাকা জরিমানা গুনতে বাধ্য করা হয়েছে।স্থানীয় বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন,আমি বিষয়টি মেনে নেইনি, কিন্তু বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের চাপের মুখে মানতে বাধ্য হয়েছিলাম। তারা বলেছে, যাদের ইলেকট্রিক শক মেশিন ছিল,তাদের একজন ওই মেশিন আটক করার সময় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল। সেই ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য সাদ্দামের এই জরিমানা করা হয়েছে।তাহিরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে এম মাহফুজুর রহমান বলেন,বিষয়টি আমাকে সাদ্দাম জানিয়েছে। আমি মধ্যনগর ইউএনও মহোদয়কে অবগত করেছি এবং তাকে বলেছি, সাদ্দাম ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এইভাবে চললে অপরাধীরা উৎসাহিত হবে এবং হাওর সংরক্ষণে স্থানীয়রা নিরুৎসাহিত হবে।সাদ্দাম হোসেন বলেন,আমি ঝুঁকি নিয়ে হাওরের সংরক্ষণের স্বার্থে মেশিনটি আটক করেছি এবং প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছি। জানতাম না এটি আমার ভুল হবে এবং আমাকে জরিমানা দিতে হবে। আমি একজন গরিব মানুষ—১২ হাজার টাকা আমার জন্য অনেক বড় অঙ্ক। যদি এভাবে সতর্ক নাগরিকদের শাস্তি দেওয়া হয়, কেউ আর হাওর রক্ষায় এগিয়ে আসবে না।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, যারা টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে এসেছে, তাদের শাস্তি দেওয়া হাওর সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা দ্রুত এই ঘটনার পুনর্বিবেচনা এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ হাওর রক্ষায় উদ্ভাবনী পদক্ষেপ নিতে ভয় না পান।




























