
সৈয়দ মোহাম্মদ ইমরান হাসান, জেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী: রাজনীতিতে বিএনপির ওপর আস্থার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি তুলনামূলক আস্থা রেখে জোটে গেলেও বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে আক্ষেপ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। নরসিংদী-২ আসনে নিজের পরাজয়ের পেছনে জোটভুক্ত দলের অসহযোগিতাপূর্ণ আচরণকেই তিনি প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দলের অভ্যন্তরীণ অবস্থান, জোট রাজনীতির হিসাব-নিকাশ এবং স্থানীয় বাস্তবতা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। সারোয়ার তুষার জানান, এনসিপির ভেতরে একটি অংশ নির্বাচনবিমুখ ছিল। তাদের যুক্তি ছিল- দলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল এবং নিশ্চিত আসন না পেলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু তিনি শুরু থেকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে অবস্থান নেন। তার ভাষ্য, রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অপরিহার্য, এবং সেটা হতে হবে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে। তিনি আরও বলেন, একক নির্বাচনের পক্ষে দলের আরেক অংশের যুক্তিকে তিনি আত্মঘাতী মনে করেছেন। কারণ, বড় দলগুলো যখন জোটভিত্তিক সমীকরণে এগোবে, তখন নতুন দল হিসেবে এনসিপির একক লড়াই বাস্তবসম্মত হবে না পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নির্বাচন সাধারণত দ্বিমুখী বা ‘বাইনারি’ সমীকরণে আবর্তিত হয়। একটি প্রতীকের বিপরীতে আরেকটি প্রতীক। সেই বাস্তবতায় শাপলা কলিকে দুই মার্কার এক মার্কা হতে হতো। কিন্তু নরসিংদী-২ আসনে শেষ পর্যন্ত তিনটি শক্তিশালী প্রতীক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকায় ভোট বিভাজন ঘটে এবং সেটিই তার পরাজয়ের মূল কারণ বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, যদি ওই আসনে কার্যকর জোট বাস্তবায়ন হতো এবং শাপলা কলি প্রধান দুই প্রতীকের একটিতে পরিণত হতো, তাহলে ফল ভিন্ন হতে পারত। তিনি দাবি করেন, সে ক্ষেত্রে তার বিজয় “শতভাগ নিশ্চিত” ছিল। জোট রাজনীতির ক্ষেত্রে তিনি বিএনপির ওপর আস্থার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি তুলনামূলক আস্থা রাখার কথা জানান। তার ধারণা ছিল, জামায়াত জোটসঙ্গীর ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিশীল ও সমন্বিত আচরণ করবে। যদিও মতাদর্শিক ও ঐতিহাসিক প্রশ্নে আপত্তি ছিল, তবুও তিনি রাজনৈতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে ছিলেন। তবে বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে আক্ষেপ করেন তিনি। নরসিংদী-২ আসনটি জোট সিদ্ধান্তের পরেও , তিনি আসনটি সারোয়ার তুষারের জন্য ছেড়ে দেয়নি নরসিংদী জেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সেক্রেটারি আমজাদ হোসেন। যার ফলে কার্যকর সমঝোতা হয়নি এবং ভোটে বিভাজন তৈরি হয়েছে। এমন অভিযোগ দলীয় নেতাকর্মীদেরও। এদিকে, নরসিংদী-২ আসনটিতে প্রাপ্ত ভোটের হিসাব অনুযায়ী ধানের শীষ: ৫৭,৬৯৪ ভোট, দাঁড়িপাল্লা: ৩৬,৬৬৯ ভোট ও শাপলা কলি পেয়েছে ১৪,৫৬৭ ভোট। ফলাফলে দেখা যায়, জোটভুক্ত দুই প্রার্থীর ভোট বিভক্ত হওয়ায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ৬,৪৫৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। এবিষয়ে আরেকটি পোষ্টে সারোয়ার তুষার দাবি করেন, ব্যালটে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না থাকলে এবং জোটের ভোট একীভূত হলে অন্তত ১০ থেকে ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী বিজয়ী হতে পারতেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভোটাররা যখন দেখেছেন পলাশে জোট কার্যকরভাবে কাজ করছে না, তখন জোটের একাংশের ভোট ধানের শীষে চলে যায়। পাশাপাশি দিনভর বিভিন্ন কেন্দ্রে বিএনপির নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং এগারো দলীয় জোটের নিষ্ক্রিয়তা নির্বাচনী মাঠে প্রভাব ফেলেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নেতাকর্মীদের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জোটের যে সমঝোতা বা নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল, তা নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে প্রতিফলিত হয়নি। এতে করে এনসিপি প্রার্থী কৌশলগতভাবে পিছিয়ে পড়েন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন দলগুলোর জন্য জোট রাজনীতি যেমন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়, তেমনি সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে তা বড় ঝুঁকিও তৈরি কর। ###





























