
মুহাম্মদ মুনতাসীর মামুন, গলাচিপা উপজেলা প্রতিনিধি :
গত ৫ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে পটুয়াখালীর গলাচিপার কৃতি সন্তান শহীদ সাগর গাজীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, গলাচিপা উপজেলা শাখা তাঁর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও কবর জিয়ারত করেছে।
গত বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানী ঢাকার উত্তরায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ছাত্রনেতা সাগর গাজী। তাঁর এই আত্মত্যাগ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের কাছে এক অনন্য প্রেরণা। তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে গলাচিপা উপজেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে তাঁর গ্রামের বাড়িতে যান এবং কবর জিয়ারত করে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। এসময় তাঁরা মরহুমের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
কবর জিয়ারত শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, গলাচিপা উপজেলা শাখার সভাপতি আরিফ বিল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক তাওহীদ ইমরান।
সভাপতি আরিফ বিল্লাহ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শহীদ সাগর গাজীর আত্মত্যাগ আমাদের কাছে কেবল একটি শোকের স্মৃতি নয়, বরং একটি অগ্নিমন্ত্র। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে অধিকার ও স্বাধীনতা পেয়েছি, তা রক্ষা করতে আমাদের অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হবে। সাগর গাজী প্রমাণ করে গেছেন যে, একজন সাধারণ ছাত্রও দেশের জন্য অসাধারণ আত্মত্যাগ করতে পারে। আমরা তাঁর আদর্শকে ধারণ করে একটি শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করে যাব।”
সাধারণ সম্পাদক তাওহীদ ইমরান বলেন, “শহীদ সাগর গাজীর আত্মত্যাগ আমাদের কাছে অনুপ্রেরণার এক চিরন্তন উৎস। তাঁর রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। আমরা ছাত্রদের অধিকার ও দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় সর্বদা আপসহীন থাকব। আমাদের লড়াই চলবে যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারছি, যেখানে সাগর গাজীর মতো ছাত্রদের আর রক্ত দিতে হবে না। আজকের এই দিনে আমরা শপথ নিচ্ছি, শহীদদের স্বপ্ন পূরণে আমরা শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও লড়ে যাব।”
এই আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি তারিকুল ইসলাম মুন্না এবং মেহেদী হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম রাব্বি, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রাব্বি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির রুবেল, অর্থ সম্পাদক রাজিব মৃধা। এছাড়াও সংগঠনের সদস্য আরাফাত, হামিম, সায়েম রেজা, নিজাম উদ্দিন ও তুহিন সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
নেতৃবৃন্দ দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, শহীদ সাগর গাজীর আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে তাঁরা একটি অধিকার-ভিত্তিক সমাজ গঠনে নিরন্তর কাজ করে যাবেন।







































