
মো. আল আমিন, কিশোরগঞ্জ শীতের সকাল কিংবা তপ্ত দুপুর—রাজপথের রাজনীতির উত্তাপ পৌছে গেছে অলিগলির চায়ের দোকানে। উপলক্ষ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। চায়ের কাপের ধোঁয়ার সঙ্গেই উড়ছে রাজনৈতিক নানা বিশ্লেষণ। কিশোরগঞ্জ-২ এ সাধারণ মানুষের মাঝে এখন একটাই আলোচনা—কে হচ্ছেন আগামী দিনে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার কাণ্ডারি?"আমরা চাই এমন একটা নির্বাচন যেখানে ভোটটা শান্তিতে দিতে পারব। চায়ের দোকানে অনেক কথাই শুনি, কিন্তু দিনশেষে আমরা চাই জিনিসের দাম কমুক আর সুশাসন আসুক।" কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে হাবিব নামে একজন চা দোকানী 'দৈনিক আলোকিত সকাল'কে বলছিলেন এমন কথা।কটিয়াদী থেকে শুরু করে পাকুন্দিয়া—সবখানেই চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে চলছে নির্বাচনী আলাপন।সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আকাঙ্ক্ষার পারদ যেমন তুঙ্গে, তেমনি রয়েছে নানা সংশয়। সাধারণ ভোটারদের প্রধান চাওয়া—একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।তরুণ ভোটারদের কাছে এবারের নির্বাচন ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করার মাধ্যম। অন্যদিকে, বয়োজ্যেষ্ঠরা স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিচ্ছেন। দলীয় প্রার্থী বাছাইয়েও সাধারণ মানুষের গভীর পর্যবেক্ষণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।"আমাদের প্রত্যাশা তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা। যিনি আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববেন, তাকেই আমরা বেছে নিতে চাই।" পাকুন্দিয়া আজলদী বাজারে বলছিলেন একজন তরুণ ভোটার।চায়ের আড্ডায় রাজনীতির এই উত্তাপ প্রমাণ করে, সাধারণ মানুষ নির্বাচন নিয়ে কতটা সচেতন। তাদের আকাঙ্ক্ষা কেবল ব্যালট পেপারে সীমাবদ্ধ নেই; বরং স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরাপদ আগামীর নিশ্চয়তা খুঁজছে প্রতিটি নাগরিক।চায়ের দোকানের এই আড্ডা শুধু নিছক গল্প নয়, এটিই আসলে জনমতের প্রতিফলন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের এই যে আকাঙ্ক্ষা, তার প্রতিফলন ব্যালট বক্সে কতটা ঘটবে—এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা। কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদি-পাকুন্দিয়া) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩২ হাজার ৫১৬ জন। এখানে ১৭০টি ভোট কেন্দ্র ও ৯৮৮টি ভোট কক্ষ রয়েছে, যার মধ্যে ৫১টি অস্থায়ী। এখানে মোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮ জন তার মধ্যে দু'জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে। এই আসনে বিএনপি থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির এডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন, জামায়াতে ইসলামী থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর মো. শফিকুল ইসলাম মোড়ল, জাতীয় পার্টি থেকে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে মো. আফজাল হোসেন ভূইয়া, গণঅধিকার পরিষদ থেকে ‘ট্রাক’ প্রতীকে জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন থেকে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে আবুল বাশার রেজওয়ান, বিএনএফ থেকে ‘টেলিভিশন’ প্রতীকে বিল্লাল হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ময়ূর’ প্রতীকে মো. আনিসুজ্জামান খোকন ও ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীকে নুর উদ্দিন আহমদ নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।তবে সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন মূল লড়াই হবে কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী পাকুন্দিয়ার জালাল উদ্দীন ও জামায়াতের প্রার্থী কটিয়াদীরের শফিকুল ইসলাম মোড়লের মধ্যেই।





























