
সাইদুল ইসলাম ,কসবা উপজেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যেই ইকবাল হোসেন (৫০) হত্যা মামলায় অভিযুক্ত দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করেছেন কসবা থানা পুলিশ। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রযুক্তির সহায়তায় সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর থানার নীলাদ্রী লেক এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। বিকেলের দিকে তাদের কসবা থানায় আনা হয়। বর্তমানে দুজন কসবা থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলো উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামের মৃত আবদুল হাকিমের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৮) ও মুজিবুর রহমানের ছেলে ফয়সাল মিয়া (২২)। আজ সোমবার তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে ব্রিফ করে কসবা থানা পুলিশ এবং তাদের দু’জনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে জানায় পুলিশ।কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনিন সুলতানা জানান, ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলো শিমরাইল গ্রামের ইকবাল হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িতরা। পরে প্রযুক্তির সহযোগিতায় কসবা থানা পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন দাসের নেতৃত্বে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর এলাকায় থেকে দুজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় জড়িত সকল আসামীকেই দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে ।উল্লেখ্য, ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে উপজেলার শিমরাইল গ্রামের মধ্যপাড়া বাজারে দোকানের সামনে সিঁড়ি নির্মান করতে গেলে বাকবিতন্ডায় জড়ায় একই গ্রামের অভিযুক্ত আবদুল হাকিমের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৮) ও মুজিবুর রহমানের ছেলে ফয়সাল মিয়া (২২)। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে ফয়সাল মিয়ার হাতে থাকা কোদাল দিয়ে সজোরে আঘাত করে ইকবাল হোসেনের মাথায় । পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইকবালকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। কুমিল্লা নেয়ার পর বিকেলের দিকে ইকবালের অবস্থার অবনিত হলে সেখানকার চিকিৎসকও তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করেন। এম্ব্যুলেন্সে করে ঢাকায় নেয়ার পথে সন্ধ্যার দিকে মারা যায় ইকবাল হোসেন। রাতে ইকবালের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসলে পরদিন বুধবার সকালে পুলিশ তার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ওই ঘটনার পর শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নিহতের স্ত্রী সরমিন বেগম বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামী করে কসবা থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা আমলে নিয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় আসামীদের ঠিকানা সনাক্ত করা হয়। সেই সুত্র ধরে রোববার সকালে সুনামগঞ্জ জেলা থেকে মামলার ১নং ও ২নং আসামী আনোয়ার হোসেন ও ফয়সাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ সোমবার আটককৃত দুজনকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হবে।





























