
মোতালেব হোসেন(কুমিল্লা): কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের হাটবাইর এলাকায় জামায়াত ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন।শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. সোলায়মান চৌধুরী, মাইক্রো চালক মো. মামুন, উপজেলা বিএনপির সদস্য মীর আহমেদ মীরু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজান খাঁন, তার মা আমেনা বেগম, বোন নাজমা আক্তার ও নারগিস আক্তার, বিএনপি সমর্থক গাজী মো. ইয়াছিনসহ আরও অনেকে। জামায়াত-শিবিরের আহতদের মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথদীঘি ইউনিয়ন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. রবিউল হক রকি, উপজেলা দক্ষিণ শিবির সভাপতি মো. রিফাত সানি, জামায়াত নেতা জাকারিয়া রাসেল ও মো. মিলন।সংঘর্ষের খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পৃথক দুটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াতের নির্বাচনী জনসভা শেষে নেতাকর্মীরা পিকআপ ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে হাটবাইর এলাকায় পৌঁছালে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজান খাঁন, গাজী ইয়াছিন ও মোবারক চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়।উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী জনসভা শেষে শান্তিপূর্ণভাবে ফেরার সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তাদের পাঁচজনসহ মোট সাতজন গুরুতর আহত হন।অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোলায়মান চৌধুরী বলেন, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে বিএনপির এলাকায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষ হয়, এতে তিনি ও তার গাড়িচালকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানান।উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম রাজু বলেন, চৌদ্দগ্রামে বিএনপি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরাই প্রথম হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু মাহমুদ কাউসার হোসেন জানান, সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




























