
তার রাজনৈতিক বয়স খুবই অল্প। কিন্তু মুক্তমনা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের অবস্থানের কারণে তিনি বহু আগে থেকেই আলোচিত। তিনি প্রথম রাজনীতিতে আলোচিত হন তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের বন্ধু হিসেবে। এরপর আস্তে আস্তে বিভিন্ন টকশোতে তার সপ্রতিভ উপস্থিতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। গতবার আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা পান। তখন থেকেই মোহাম্মদ এ আরাফাতের দিকে সকলের দৃষ্টি। স্মার্টলি কথাবার্তা বলা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবে যুক্তি দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য যিনি বিভিন্ন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন তিনি হলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।
আওয়ামী লীগের গত কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ার পর তাকে রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় এবং সপ্রতিভ দেখা যায়। বিশেষ করে সেসময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক যে পটভূমি তৈরি হয়েছিল বিশেষ করে যারা বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে নানামুখী চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র করেছিল তাদেরকে সামাল দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে সমস্ত ব্যক্তিরা উদ্যোগী হয়েছিলেন এবং দায়িত্ব পালন করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মোহাম্মদ আলী আরাফাত। এই সময় বিভিন্ন দূতাবাসগুলোতে প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝানো, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে চিঠি প্রদান ইত্যাদি কারণে তিনি আলোচিত হন।
গুলশান আসনের প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য চিত্রনায়ক ফারুক এর মৃত্যুর পর অনেক প্রার্থী থাকার পরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরাফাতকে পছন্দ করেন এবং ওই নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন। এরপর ২০২৪ এর নির্বাচনের আগে কূটনৈতিক তৎপরতায় আওয়ামী লীগের যে সমস্ত নেতারা দৃশ্যমান ছিলেন, সপ্রতিভ ছিলেন তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আরাফাত হলেন অন্যতম। ২০২৪ এর নির্বাচনের পর তাকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের মতো স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তত সফল ভাবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে কোন রকম বিতর্ক সৃষ্টি না করে গণমাধ্যমের সঙ্গে একটি সুসম্পর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি মন্ত্রণালয়কে পরিচ্ছন্ন ভাবে চালানোর একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
এবার কোটা সংস্কার আন্দোলন মোহাম্মদ আলী আরাফাতের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে যেন আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। কোটা আন্দোলনের শুরু থেকেই তিনি সরব ছিলেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরাসরি কথা বলেছেন, যুক্তি দেখিয়েছেন। যখন সারাদেশে তাণ্ডব হয়েছে তারপর পর তার অবস্থান ছিলো অন্তত স্পষ্ট। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাতে দেখা গেছে। তার দায়িত্ব পালনে আগ্রহ এবং একাগ্রতা দেখে প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য যে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল নির্বাচন করেন তার মধ্যে আইনমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি মোহাম্মদ আলী আরাফাতকেও রাখেন। শুধুমাত্র তাই নয়, এই সময় তিনি আল জাজিরায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার দিয়ে আলোচনায় আসনে। তার স্পষ্ট এবং দায়িত্বশীল কথাবার্তা হলো সকল মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। এ সময় রাজনৈতিক সংকটে তিনি লাইমলাইটে এসেছেন।







































