
মোহাম্মদ আবদুর রহিম, কুমিল্লা দক্ষিণঃ
লাকসামে ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীর ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের সংবাদ পাওয়া গেছে।
আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে লাকসাম পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের চাচা-ভাতিজা ভবনের ৪ তলার ফোর বি-ব্লকের ভাড়া বাসায় সিলিং কাপড়ের ওড়নায় পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
এ ঘটনায় মেয়ের চাচা আলা উদ্দিন সোহাগ বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন।
নিহত স্কুল ছাত্রী সিনথিয়া উদ্দিন (১৪)। পাশ্ববর্তী লালমাই উপজেলার ৬ নং পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের সিংহরিয়া উত্তরপাড়া মসজিদ বাড়ির সৌদি আরব প্রবাসী সাহাবুদ্দিন ও লাকসাম
পৌরসভার কোমারডোগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খালেদা আক্তারের বড় মেয়ে। এবং লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী।
ধারণা করা হচ্ছে প্রেম সংক্রান্ত বিষয়ে মায়ের সাথে কথা কাটাকাটির সুত্র ধরে অভিমান করে সে সিলিং কাপড়ের ওড়নায় পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
পুলিশ ও পরিবার সুত্রে জানা যায়, পাশ্ববর্তী লালমাই উপজেলার ৬ নং পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের সিংহরিয়া উত্তরপাড়া মসজিদ বাড়ির সৌদি আরব প্রবাসী সাহাবুদ্দিন ও লাকসাম পৌরসভার কোমারডোগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খালেদা আক্তার লাকসাম পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের চাচা-ভাতিজা ভবনের ৪ তলার ফোর বি-ব্লকের ভাড়া বাসায় থাকেন। তাদের বড় মেয়ে লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী সিনথিয়া উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে যাচ্ছেন।
সিনথিয়া উদ্দিন পরিবারের অজান্তেই অজ্ঞাত যুবকের সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। পড়ালেখার বিষয়ে মা খালেদা আক্তার প্রায় বকাঝকা করেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে মেয়ের মা খালেদা আক্তার বাসায় না থাকার এক ফাঁকে সে কাপড়ের ওড়নায় পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
সংবাদ পেয়ে লাকসাম থানা পুলিশের এসআই আরিফ সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
লাশের সোরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত স্কুল ছাত্রীর মরদেহ স্কুল গেটে আনা হলে বিদ্যালয়ের সহপাঠীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিলিপ কুমার জানিয়েছেন সিনথিয়া উদ্দিন আমাদের বিদ্যালয়ের নিয়মিত ও মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। তার মৃত্যুর সংবাদে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকাহত পরিস্থিতি বিবেচনায় ৯ম শ্রেণির ছাত্রীদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।
নিহত সিনথিয়া উদ্দিনের মা লাকসাম পৌরসভার কোমারডোগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খালেদা আক্তার মেয়ের অকাল মৃত্যুতে শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে আছে। তিনি কারো সাথে কথা বলে না।
নিহত সিনথিয়া উদ্দিনের চাচা আলা উদ্দিন সোহাগ বলেন, আমার বড় ভাই সৌদি আরব প্রবাসী তিনি সব সময় মেয়ের জন্য ব্যাকুল থাকেন। প্রতি নিয়ত মেয়ের খোঁজ খবর নিতেন। মেয়ের মৃত্যু সংবাদে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
লাকসাম থানা পুলিশের ওসি মোঃ মাকসুদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্কুল ছাত্রীর ফাঁস দেয়া লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের সোরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় মেয়ের চাচা আলা উদ্দিন সোহাগ বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন।

































