
আতিক ফারুকী, নিজস্ব প্রতিবেদক :
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় লায়েছ ভূইয়া কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এক শিক্ষককে বকেয়া বেতন পরিশোধ না করেই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন ওই শিক্ষক।
সোমবার (১৪ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন স্কুল শাখার সহকারী শিক্ষক মো. ঝুটন মিয়া। অভিযোগে তিনি জানান, ২০১৫ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং গত ১০ বছর ধরে সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু কোনো পূর্ব সতর্কতা বা কারণ দর্শানো ছাড়াই গভর্নিং বডির একতরফা সিদ্ধান্তে গত ৩০ জুন তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার বকেয়া বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক পাওনা এখনও পরিশোধ করা হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির আয়-উৎস যেমন গরুর হাট, পুকুর ভাড়া এবং শিল্পপতিদের অনুদান থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন, উৎসব ভাতা, পিএফ ফান্ড ও ইনক্রিমেন্ট প্রদান করা হয় না। তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে একাধিক হত্যা মামলার আসামী ডিআইজি আব্দুল বাতেনের নির্দেশনায়। কোনো বোর্ড রেজুলেশন ছাড়াই বেতন-ভাতা নির্ধারণ ও বিতরণ করা হচ্ছে, এবং প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণরূপে অস্বচ্ছ হয়ে পড়েছে।
ঝুটন মিয়া তার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, ট্রাস্ট ও কলেজের অর্থ ও সম্পদের সঠিক হিসাব না থাকায় তা আত্মসাতের শামিল। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত, বকেয়া পাওনার পরিশোধ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন গভর্নিং বডি গঠনের দাবি জানান তিনি।
লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. শাহীন উদ্দিন বলেন,খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে তাকে গভর্নিং বডি যেকোনো সময় অব্যাহতি দিতে পারে। তিনি আমাদের প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনো টাকা বকেয়া পান না। আর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন ,এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





























