
শ্রীবাস মজুমদার স্টাফ রিপোর্টার:-
আবদুস শহিদ,বিশিষ্ট সাংবাদিক নেতা।ছাত্রজীবনে সাংবাদিকতা শুরু করে এ পেশাই পার করে দিয়েছেন প্রায় ৪০বছর।
শুধু সাংবাদকিতাই নয়। সাংবাদিকতার শুরু থেকেই সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে লড়ে যাচ্ছিলেন তিনি।তাই দেশব্যাপী সাংবাদিক পরিবারে আবদুস শহিদ অতিপরিচিত নাম।সে কারণে লক্ষ্মীপুরে জন্ম গ্রহনকারি সাংবাদিকদের মধ্যে জনাব আবদুস শহিদকে মরহুম সানাউল্লাহ নূরীর পরেই মনে করা হয়।জীবনের বেশিরভাগ সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন।মৃত্যুর আগেও তিনি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল এনটিভির সিনিয়র বার্তা সম্পাদক পদে কর্মরত ছিলেন।
ছাত্রাবস্থায় সাংবাদিকতায় যুক্ত হন জনাব শহিদ। দীর্ঘদিন দৈনিক দিনকালের চিফরিপোর্টার পদে দায়িত্ব পালনের পর যোগ দেন তৎকালীন লন্ডন ভিত্তিক টেলিভিশন- চ্যানেল এস এ,এরপর এনটিভিতে।তিনি ঢাকার সাংবাদিকদের ট্রেড ইউনিয়ন-ডিইউজের দুই বার সভাপতি ও দুইবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
পরে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।এছাড়া ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতির সম্পাদক ছিলেন তিনি।ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম,বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের সদস্যসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন জনাব আবদুস শহিদ।
পার্লামেন্ট রির্পোটিং,পরিবেশ রির্পোটিং এবং অনুসন্ধানমূলক রির্পোটিং বিষয়ে বিশেষ দক্ষ সাংবাদিক শহিদ সাংবাদিক তার কাজে পৃথিবীর কয়েকটি দেশ সফর করেন।তাঁর জন্ম ১৯৫৭সালের ১৫ই আগস্ট সাবেক রামগতি বর্তমান কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ গ্রামে।
তাঁর বাবা আবদুল বারী ছিলেন এক সময়ের এলাকার অবস্থা সম্পন্ন কৃষক। মাতা আফিয়া খাতুন ছিলেন গৃহিনী।দাদার বাড়ি ছিল লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার নলডগী গ্রামে।নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে তাদের পরিবার চলে আসে বর্তমান এলাকায়। প্রাথমিক শিক্ষা শেষের পর প্রথমে তিনি কমলনগরের তোরাবগঞ্জ উচ্চ
বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও পরে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ হাইস্কুল থেকে ১৯৭৩ সালে এসএসসি পাস করেন।স্কুল জীবনে তিনি নানা ধরনের লেখালেখি এবং সাহিত্য সংস্কৃতির সাথে জড়িত হন। ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী ডিগ্রি কলেজ থেকে তিনি এইচএসসি পাশ করেন।পরে বাংলা বিষয় নিয়ে অর্নাসে ভর্তি হন।সাংবাদিকতা পেশা এবং সাংসারিক চাপের কারণে তিনি অনার্স কোর্স শেষ না করে ডিগ্রী কোর্স করেন।পরে মাস্টার্স ডিগ্রী সম্পন্ন করেন।
সে সময়েই তিনি সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত হন। সাপ্তাহিক সচিত্র স্বদেশ, দৈনিক কিষাণ এবং দৈনিক আজাদে সাংবাদিকতা শেষে ১৯৮৭ সালে তিনি দৈনিক দিনকালে যোগ দেন।দিনকাল থেকে শেষে চলে আসেন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায়।সাংবাদি কতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক কাজের সাথেও জড়িত।তিনি কমলনগরের একমাত্র কলেজ হাজিরহাট উপকূল ডিগ্রী
কলেজ প্রতিষ্ঠার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।এছাড়া কমলনগর উপজেলা গঠনকালীন সময়ে ঢাকাস্থ কমলনগর উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি পদে দায়িত্ব নিয়ে উপজেলা বাস্তবায়নের জন্য গণমাধ্যমে বেশ ভূমিকা রাখেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নিজ গ্রামে ১৫ শতক জায়গায় নিয়ে পিতা-মাতার নামে গড়ে তুলেছেন আফিয়া-বারী হাফিজিয়া এতিমখানা।এতিম এবং নদীভাঙ্গা অসহায় পরিবারের শিশুসহ ৭০ টি শিশু ও পাঁচ জন শিক্ষকের আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে এ
এতিমখানায়। ঢাকাস্থ লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির জীবন সদস্য জনাব আবদুস শহিদ রাজধানীর বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত লক্ষ্মীপরের সাংবাদিকদের সংগঠন লক্ষ্মীপুর জেলা সাংবাদিক ফোরামের উপদেষ্টা ছিলেন।= মৃত্যু=(২৩ আগষ্ট ২০২০)বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সাংবাদিক আব্দুস শহীদ ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তিনি স্ত্রী ও এক ছেলে রেখে গেছেন। আব্দুস শহীদের বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর(২৩ আগষ্ট 2020) রাত সাড়ে দশ টার দিকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ গ্রামের ইসলামপাড়া এলাকার ‘আফিয়া-বারী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা’র সামনে কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।২০২০ সালের২৫জুলাই আব্দুস শহীদের নমুনা পরীক্ষায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে।
শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে ২৭ জুলাই তাকে উত্তরায় কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।অবস্থার অবনতি হলে পরদিন তাকে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাস পাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়।





























