
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের গুরুদাসপুরে মসজিদের হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে দু-পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৭ জন।
শুক্রবার (১১ এপ্রিল) জুম্মার নামাজ শেষে উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের রানীগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, বিএনপিকর্মী আব্দুল হাকিম (৩৮), আনসার প্রামানিক (৬৫), রফিকুল প্রামানিক (৫০), ও আওয়ামী লীগের বাবুল প্রামানিক (৫০), সুজন আহমেদ (৩০), তারিকুল ইসলাম (২৫), হারেজ আলী (৪০)। এর মধ্যে হাতে রগ কেটে দেওয়ায় বিএনপি কর্মী আব্দুল হাকিমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
বিএনপি নেতা এরশাদ আলী বলেন, রানীগ্রাম মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ওই এলাকার বাদল প্রামানিকের ছেলে ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক লাবলুর রহমান। জুম্মার নামাজ শেষে মসজিদ কমিটির বৈঠক চলছিলো। সেই বৈঠকে লাবলুর রহমানের কাছে মসজিদের যাবতীয় হিসাব চাওয়া হলে তাদের ওপর উত্তেজিত হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ১৭ বছর যাবৎ মসজিদের কোন হিসাব তিনি কমিটি বা মুসল্লীদের কাছে দেননি। সেই প্রতিবাদ করার কারনেই দেশীয় অস্ত্র দিয়ে লাবলুর রহমান তার অনুসারীদের নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই তার ভাই আব্দুল হাকিমের হাতে রগ কেটে দেওয়া হয়। এছাড়াও গুরুত্বর রক্তাক্ত অবস্থায় আরো তিন জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিনি চিহ্নিত সন্ত্রাসী আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান।
সকল অভিযোগ অস্বিকার করে ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক লাবলুর রহমান বলেন, উত্তেজিত হয়ে তার ওপর আব্দুল হাকিমসহ তার অনুসারীরা হামলার আক্রমণ করলে তিনি অসুস্থ হয়ে মসজিদের মেঁঝেতে পরে যান। তারপর কি হয়ে যায় সে বিষয়ে তিনি অবগত না। তবে তাদের ৪জন আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাজিব হোসেন বলেন,‘আব্দুল হাকিম নামের এক ব্যক্তির ডান হাতের রগ কেটে যাওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। এছাড়ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে আসা ৪-৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার হোসেন বলেন,‘খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





























