
‘মিট দ্য প্রেস’-এ মনিরুল হক চৌধুরী।
মোতালেব হোসেন(কুমিল্লা):
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন কুমিল্লা–৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারী) আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কুমিল্লায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রচার-প্রচারণার শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি ভোটারদের কাছে গেছেন এবং গণমাধ্যমে তার কর্মসূচি ও বক্তব্য তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, আমি এই আদি কোতোয়ালির সন্তান। কুমিল্লা শহরকে আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। আল্লাহ তায়ালা সেই সুযোগ দিয়েছেন।
এ সময় তাকে কুমিল্লা–৬ আসনে মনোনয়ন দেওয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তা আজ নানা ষড়যন্ত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ভোটের দিন সকল ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং যেকোনো অরাজকতা শক্ত হাতে দমন করতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারের একটি বড় সুযোগ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কুমিল্লা–৬ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভয়ভীতি ও শঙ্কা উপেক্ষা করে সকলে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমি সবার ভোট চাই।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের বড়দৈল গ্রামে সংঘটিত সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর হামলায় বিএনপির দুই কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।
তিনি মহানগরের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, আধুনিক ও দেশের শ্রেষ্ঠ মহানগর হিসেবে কুমিল্লাকে গড়ে তুলতে তিনি একটি সুদূরপ্রসারী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন, ঢাকা-চট্টগ্রাম সরাসরি রেললাইন, মেট্রোপলিটন সিটি গঠন, বিমানবন্দর চালু, কোটবাড়ি–লালমাই অঞ্চল নিয়ে আখতার হামিদ খান স্যাটেলাইট সিটি প্রতিষ্ঠা, যানজট নিরসন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আইটি ভিলেজ স্থাপন, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, বিকল্প সড়ক, আধুনিক ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতা নিরসন।
গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন , দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সাংবাদিকদের সহযোগিতা তিনি সবসময় পেয়েছেন। আধুনিক ও বাসযোগ্য কুমিল্লা বিনির্মাণে সবসময় গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।





























