
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: একটি সকাল, একটি ছোট নৌকা, মাদ্রাসায় যাওয়ার তাড়া—তাতেই থেমে গেলো তিনটি জীবন। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরআলগী গ্রামের দুই শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার হলো ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে। মঙ্গলবারের (১ জুলাই) নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ থাকা শিশু আবির (৭) ও জুবায়েদ (৬)-এর নিথর দেহ মিললো একদিন পর, বুধবার (২ জুলাই) ভোরে, ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার বাঁশিয়া এলাকার নদীপাড়ে। শিশু দু’জন—আবির, হাবিব মিয়ার ছেলে এবং জুবায়েদ, মুমতাজ উদ্দিনের ছেলে। তারা ছিলো একই গ্রামের, একই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। স্থানীয়রা জানান, গতকাল সকালে মোট ৯ জন শিক্ষার্থী একটি ছোট নৌকায় ব্রহ্মপুত্র নদ পার হচ্ছিল। তাদের গন্তব্য ছিল নদীর ওপাড়ে অবস্থিত মাদ্রাসা। কিন্তু দত্তের বাজার সংলগ্ন নদীর মোহনায় হঠাৎ নৌকাটি ডুবে যায়। ছয়জন প্রাণপণে সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও তিনজন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। ঘটনার দিন দুপুরেই উদ্ধার হয় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাপলার মরদেহ। বাকি দু’জনের হদিস মেলে আজ ভোরে। চরফরাদি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, "ভোরে স্বজনরা নিজেরাই নৌকা নিয়ে খুঁজতে বের হন। এক পর্যায়ে বাঁশিয়া এলাকায় নদীর পানিতে মরদেহ দুটি ভেসে থাকতে দেখে তারা উদ্ধার করেন।" ঘটনাটি শুধু দুইটি শিশুর মৃত্যুই নয়—এ যেন গোটা এক গ্রামের স্বপ্নভঙ্গ। চরআলগীর বাসিন্দা ফিরোজ আশরাফ শান্ত বলেন, "দীর্ঘদিন ধরেই আমরা একটি সেতুর জন্য দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কেউ শুনেনি। বছরের পর বছর এ নদী পার হতে গিয়ে ঘটে যাচ্ছে দুর্ঘটনা। এই মৃত্যুগুলো আমাদের অবহেলার খেসারত।" এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, "ব্রহ্মপুত্র নদে শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।"





























