
মো. মুরাদ মৃধা, রাণীনগর নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সদর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতেও বর্তমানে বিষফোঁড়ার মতো ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর নেশা। স্মার্টফোনের স্ক্রিনে 'দ্রুত বড়লোক হওয়ার' স্বপ্নে বিভোর হয়ে সর্বস্ব খোয়াচ্ছে শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি থাকলেও প্রযুক্তির আড়ালে এই ডিজিটাল অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা ক্রমশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও মোড়ের চা স্টলগুলোতে এক সময় রাজনীতির সরগরম আড্ডা জমলেও এখন চিত্র ভিন্ন। সেখানে তরুণ ও যুবকদের মনোযোগ এখন কেবল স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। 'ওয়ানএক্সবেট', 'মেলবেট' ও 'বাবুএইটিএইট'-এর মতো বিভিন্ন বিদেশি অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে চলছে এই মরণখেলা। বিশেষ করে চলমান বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ফুটবল লিগ ঘিরে জুয়ার এই ভয়াবহতা এখন তুঙ্গে।উপজেলার একাধিক ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জুয়ার নেশায় পড়ে অনেক তরুণ নিজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, পরিবারের গবাদি পশু, এমনকি আবাদি জমিও বন্ধক রাখছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক আক্ষেপ করে জানান, আমার ছেলে পড়াশোনার কথা বলে স্মার্টফোন নিয়েছিল, কিন্তু এখন সে ঋণে ডুবে আছে। ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করে তার জুয়ার দেনা মেটাতে হচ্ছে। এমন করুণ দশা এখন উপজেলার শত শত পরিবারের।এই অবৈধ কারবারে লেনদেনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (বিকাশ, নগদ ও রকেট)। স্থানীয় পর্যায়ের কিছু অসাধু এজেন্ট ও 'সুপার এজেন্ট' এই অর্থ লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জুয়ার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া এই বিপুল অর্থ পরে হুন্ডির মাধ্যমে দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ফলে রাণীনগর থেকে প্রতিদিন বিশাল অংকের টাকা অবৈধ পথে বিদেশে চলে যাচ্ছে।অনলাইন জুয়ার প্রভাবে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে না পেরে অনেক কিশোর ও তরুণ মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া পারিবারিক কলহ ও বিবাহবিচ্ছেদের হারও পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।রাণীনগর থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালানো হলেও জুয়াড়িরা এখন অত্যন্ত ধূর্ত। তারা ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করে গোপনে এই কার্যক্রম চালাচ্ছে, যা শনাক্ত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।সচেতন মহলের মতে, কেবল ধরপাকড় করে এই ডিজিটাল মরণনেশা বন্ধ করা সম্ভব নয়। তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে প্রতিটি গ্রামে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানদের মোবাইল ব্যবহার ও সঙ্গীদের বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা।




























