
একটি পক্ষ সক্রিয় হয়ে দেশে অস্থিতিশীল তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও মনে করছে বিএনপি। দলটির ধারণা-অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ ও নির্বাচন বিলম্বিত করতে দেশে রাজনৈতিক চক্রান্ত চলছে। গত সোমবার রাতে বিএনপি সর্বোচ্চ নীতি নিধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চলমান অস্থিরতা রোধে ঢাকায় সমাবেশ করার চিন্তা করছে দলটি।
বিএনপি মনে করছে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সামালাতে পারছে না অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকার প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ কোথাও স্বৈরাচার মুক্ত করতে পারেনি। প্রতিটি স্থানে ফ্যাসিবাদীদের দোসর ও তাদের অনুসারীরা এখনো বসে রয়েছে। তারা দেশে বিভিন্ন ইস্যুতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র আরও জানায়, দেশের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে শিগগিরই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীকে আরও গতিশীল করা সহ বর্তমান পরিস্থিতিতে সর্তকভাবে চলতে নানা পরার্মশ দেওয়া হবে বিএনপির পক্ষ থেকে।
ঢাকাসহ সারাদেশে নানা ইস্যুতে বিক্ষোভ-অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। বৈঠকে দুই জন সদস্য চলমান অস্থিরতা রোধে ঢাকায় সমাবেশ করার প্রস্তাব দেন। এ প্রস্তাবে সবাই সম্মতি দেন। যদিও সমাবেশে করার দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শিগগিরই এই সমাবেশ করার চিন্তা করছে দলটি। এজন্য দলীয় প্রস্তুত নিতেও নেতার্কমীদের নির্দেশ দেওয়া কথা জানানো হয়।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারের সংস্কার কমিশনগুলোকে দেওয়ার জন্য যত প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে, সেগুলো পাস করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ সংস্কার কমিটির প্রতিবেদন প্রায় চূড়ান্ত। শিগগিরই সংস্কার প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দুই কমিশনের নিকট জমা দেওয়া হবে। এর মধ্যে পুলিশ সংস্কার কমিটির প্রধান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার প্রতিবেদন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে জমা দিয়েছেন। দলীয় সংস্কার কমিটিগুলোর কাজের অগ্রগতির বিষয় ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর কাজ নিয়েও আলোচনা করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, প্রশাসন, বিচারবিভাগ সহ প্রতিটি জায়গায় পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা এখনো বহাল তবিয়তে বসে আছে। এরা সরকারকে ব্যর্থ ও দেশে অস্থিরতা তৈরির করতে চাইছে। এছাড়াও নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে বলেই নির্বাচনকে বিলম্বিত করার চেষ্টাও করা হচ্ছে।
রাজধানীর গুলশানে সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই বৈঠক শুরু হয়ে চলে ২ ঘণ্টাব্যাপী। ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম), অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।







































