
সুজানগর প্রতিনিধি:
পাবনার সুজানগরে সরকারি ডাঃ জহুরুল কামাল ডিগ্রী (অনার্স) কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। মঙ্গলবার ১৩ আগষ্ট বেলা ১১টায় সরকারি ডাঃ জহুরুল কামাল ডিগ্রী( অনার্স) কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন । মিছিলে প্রতিষ্ঠানটির শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এরপর অত্র প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন তারা। এসময় শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে এবং শিক্ষকবৃন্দ একই সাথে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি ও বিভিন্ন দুর্নীতি অনিয়ম তুলে ধরেন।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা বলেন,,বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আমাদের সহপাঠী পুলিশের হাতে ১৭ দিন গ্রেপ্তার হলে অধ্যক্ষ কোন খোঁজ খবর নেয়নি, কোন প্রকার ভালবাসা ও দেখান নি বরং অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ শিক্ষার্থীদের নানা উস্কানিমূলক কথা বলেন। সকল শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফের পদত্যাগের দাবি জানান।
এসময় অত্র প্রতিষ্ঠানের গনিত বিভাগের সহকারী শিক্ষক আবু নুর মোহাম্মাদ আসাদুজ্জামান বলেন,,,,২০০৮ সালের জাতীয় সংসাদ নির্বাচনের পর দিন থেকে সরকারি ডাঃ জহুরুল কামাল ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ ক্ষমতার জোরে আমার কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে, না দিলে কলেজে আসতে নিষেধ করে, কলেজে আসলে হাড়-গুর ভেঙে দিবে ও হুমকি ধামকি দেন , আমি তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি জন্য তিনি আমার সাথে এমন করেছেন। তিনি আমার উপর যে পরিমান নির্যাতন করেছে তা এলাকার মানুষ জানে প্রতিটা শিক্ষক জানে, তারা ভয়ে কিছু বলেন নাই,
তিনি আমাকে কলেজ থেকে সাড়ে ১৫ বছর বিতারিত করে রেখেছে,
তিনি আমাকে একটি টাকাও বেতন দেননি। এখন আমি আমার অধিকার নিতে এসেছি, আমি আমার চাকরি দাবি করছি।
তার দুর্নীতির কথা সবাই জানে, দুর্নীতি যদি না করতো তিনি পাবনা শহরে ৫ তলা বিল্ডিং দিতে পারতো না । এমনকি তিনি একই সাথে দুইটা প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন তুলতেন।
শিক্ষক আসাদুজ্জামান আরো বলেন, পাবনা প্রশাসনের কাছে দুর্নীতির উপযুক্ত শাস্তি চেয়ে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ফিরে আনতে অনুরোধ জানান।
অত্র কলেজের শিক্ষক মো: সাইফুল ইসলাম বলেন আমি দীর্ঘদিন নিজের নির্যাতিত, নিষ্পেষিত। তার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তিনি অত্র প্রতিষ্ঠানে স্বজন প্রীতি করেন, তিনি টাকার বিনিময়ে কলেজের নিয়োগ দেন এবং বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ক্ষাতের কথা বলে শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।
অত্র কলেজের শিক্ষক মো: আব্দুলাহা হিল কাফী বলেন,,,নিয়োগ, যোগদান ও প্রমোশন নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।
১৩ আগষ্ট বিক্ষোভ শেষে ছাত্র-জনতা অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফের কক্ষ সিলগালা করে দেয় ।





























