
ওয়াসিম উদ্দিন সোহাগ (স্টাফ রিপোর্টার)দেশে গত কয়েক দিনের খররৌদ্রে জনজীবন অতিষ্ঠ। কোন কোন জায়গায় রোদের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে ৪২.৬ ডিগ্রী সেঃ তাপমাত্রায় পৌঁছেছে। আজ কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা ৩৭ ডিগ্রী সেঃ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেঃ পর্যন্ত তাপমাত্রা অনুভূত হয়েছে। উক্ত তাপমাত্রায় উপজেলাবাসি বিপর্যন্ত। বিশেষ করে কৃষক, শ্রমিক মেহনতি মানুষের ভোগান্তি বেশি। প্রখর রোদ আর তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যহত হচ্ছে। তাই পিপাসা মেটাতে ঝুকছে ভ্রাম্যমান শরবতের দোকানে। কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার গরমে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষগুলি স্বস্তি খোঁজার চেষ্টা করছে ফুটপাতের নানা রকম শরবত পান করে।সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে- বুধবার (২৪ এপ্রিল) উপজেলা পরিষদের সামনে, বিভিন্ন সড়কের পাশে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে ও অলিগলিতে নানা ধরনের শরবত বিক্রি করছে বিক্রেতারা। আর গরম থেকে বাঁচতে এসব শরবত পান করছে সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন রকমের শরবত বিক্রি হচ্ছে ভাসমান এসব দোকানে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এই গরমে লেবুর শরবতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া রয়েছে ইসবগুলের ভুসি, আখের রস ও বেলের শরবত। তৃষ্ণা মেটাতে এসব দোকানে বেশি ভিড় করছে রিকশাচালক, ভেনচালক, দিনমজুর ও সাধারণ পথচারীরা।তাড়াইল উপজেলা ভূমি অফিসের বিপরীতে দাঁড়িয়ে লেবুর শরবত বিক্রি করছেন উপজেলার দামিহা ইউনিয়নের নগরকুল গ্রামের মিজানুর রহমান। তার কাছে জিজ্ঞাসা করে জানা যায় যে শরবত পাঁচ টাকা করে বিক্রি করতো তা এখন ১০ টাকায় বিক্রি করা যায়। তবুও লাভ হয় কম। দিনে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার শরবত বিক্রি করা যায়। তা থেকে অন্যান্য খরচ শেষে লাভ থাকে ১ হাজার টাকার মতো। তবে গতবারের তুলনায় এবার বেচাকেনা কম কারণ শরবতের দোকানের সংখ্যা বেড়ে গেছে।রিফাত (১৫) নামের এক পথচারী দাঁড়িয়ে পান করছে শরবত। তিনি বলেন, গলা শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে গেছে। যতই ঠান্ডা পানি পান করি কোনও কাজ হচ্ছে না। এসব শরবত স্বাস্থ্যসম্মত নয় জেনেও পান করছে এক আগন্তুক। তাহলে কেন পান করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফুটপাতের এসব শরবত অস্বাস্থ্যকর ও ধুলাবালুযুক্ত কিন্তু তৃষ্ণা মেটাতে ও সহজলভ্য হওয়ায় এই শরবত পান করতে হচ্ছে। রিকশা চালক সলিমুদ্দীন (৪৫) বলেন, প্রচণ্ড গরমে অনেক ঘামছি, গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। গরমের কারণে আর পেসেন্জার বহন করতে পারছি না। একটু পরপর এসব দোকানে শরবত কিনে খেতে হচ্ছে। এরকমভাবে পিপাসার্ত হয়ে অনেকেই ভীড় জমাচ্ছে ফুটপাতের ঐ সকল শরবতের দোকানে।ভ্রাম্যমান এই দোকানের শরবত কতটুকু মানসম্মত! এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলমাছ হোসেন বলেন, ফুটপাতের শরবতে স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে। এগুলো থেকে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ যেমন: টাইফয়েড, ডায়রিয়াসহ পেটের বিভিন্ন অসুখ হতে পারে। ফুটপাতে শরবত পানের মাধ্যমে সমাজে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে বোতলে বিশুদ্ধ পানি বহন করাই সবচেয়ে ভালো বলে মনে করেন এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।




































