
নাহিদ ইসলাম, রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীতে আরএমপির বিশেষ কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজশাহী জেলা পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে আয়োজিত এ সভায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও পদমর্যাদার বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান সভাপতিত্বে সভায় পুলিশ সদস্যরা তাঁদের দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন সমস্যা, সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতা এবং কল্যাণসংক্রান্ত নানা বাস্তবধর্মী প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। পুলিশ কমিশনার প্রত্যেকের বক্তব্য অত্যন্ত মনোযোগ ও আন্তরিকতার সঙ্গে শোনেন। তিনি উত্থাপিত সকল বিষয় গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে যৌক্তিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন,“একটি দক্ষ, মানবিক ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে হলে প্রত্যেক সদস্যকে একসঙ্গে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার সর্বোচ্চ চর্চা করতে হবে।”
তিনি বলেন, পুলিশের চাকরি শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। জনগণের জানমাল রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের নিজেদের জীবনযাত্রা, আচরণ ও মনোবৃত্তিকে উদাহরণ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
পুলিশ কমিশনার আরও বলেন,“সহকর্মীদের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ এবং দায়িত্ব পালনের সময় ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখাই একজন প্রকৃত পেশাদার পুলিশ সদস্যের পরিচয়।”
তিনি ড্রেস রুলস অনুযায়ী নিয়মিত ও পরিপাটি পোশাক পরিধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাহিনীর শালীন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ উপস্থিতি জনমনে পুলিশের প্রতি আস্থা ও সম্মান বাড়ায়।
নিজেদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে কমিশনার মহোদয় বলেন, নিয়মিত খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্য সচেতনতাই কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার মূল ভিত্তি। একই সঙ্গে আত্ম-উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং জ্ঞানার্জনের প্রতি আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নৈতিকতা প্রসঙ্গে কমিশনার বলেন, “সততা ও নীতিনিষ্ঠতা হলো পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি। কোনো পরিস্থিতিতেই এই জায়গা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখলেই পুলিশের সক্ষমতা ও বাহিনীর সম্মান বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।”
তিনি আরও বলেন, রাজশাহী মহানগরীর সর্বস্তরের জনগণ যেন দ্রুত, ন্যায়সংগত ও মানসম্মত পুলিশি সেবা পায়—এ লক্ষ্যেই আরএমপি’র প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, আরএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) জনাব নাজমুল হাসান, পিপিএম; উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) এবং অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত জনাব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, পিপিএমসহ আরএমপি’র বিভিন্ন শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।





























