
নাহিদ ইসলাম, রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নবী নওয়াজেস আমিনের বিরুদ্ধে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অগ্রিম রেট বেঁধে আবেদনকারীদের কাছে থেকে আদায় করেছেন ঘুষের টাকা। ফলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট খাদ্য দপ্তরের উদ্ধতন কর্মকর্তা এবং দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এ দুটি কর্মসূচির ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম মানা হয়নি। দলীয় নেতাকর্মীদের ওএমএস এবং খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলারশিপ ভাগ বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর বাইরে ডিলারশিপ গ্রহণের জন্য কেউ আবেদন পর্যন্ত করতে পারেননি। এ কারণে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বর্তমানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিয়োগকৃত ডিলারশিপ বাতিল করার জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় উদ্যোগ গ্রহণ করে।
সেই হিসেবে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সারাদেশে নতুন করে ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করে। কর্মসূচির আওতায় পরিবেশক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করলে আগের পরিবেশকরা উচ্চ আদালতে মামলা করলে কার্যক্রমটি স্থগিত হয়ে যায়।
এ ঘটনায় গত (২৪ আগস্ট) রবিবার উপজেলার বড়বিহানলী ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান মিলন নামের নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে খাদ্য নিয়ন্ত্রক নবী নওয়াজেস আমিনের বিরুদ্ধে ডিলার নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উপজেলা প্রশাসনকে ট্যাগ করে লেখেন, ইউপি পর্যায়ে ডিলার নিয়োগের নামে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস থেকে জনপ্রতি প্রতিটি আবেদনকারীর কাছ থেকে ৭৫০০ টাকা নেয়া হয়েছে অন্তত কয়েকশত জনের কাছে থেকে। পরবর্তীতে চাপে পড়ে কয়েকজনকে ২৪০০ টাকা করে ফেরতও দেয়া হয়। পৌরসভার নিয়োগ হলেও ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়োগের কোন খোঁজ নেই বিষয়টি বাগমারায় প্রায় সব সাংবাদিক জানে কিন্তু কোন নিউজ নেই।
আমার প্রশ্ন, ডিলারপ্রতি আবেদনের সাথে কত টাকা নেয়ার বিধান আছে?
আর সবাইতো নিয়োগ পাবে না তাহলে সবার কাছ থেকে কেন টাকা নেয়া হলো???
প্রশাসনসহ কোন কোন সাংবাদিক কোন স্বার্থে ম্যানেজ হলো?
আমার অভিযোগ মিথ্যা হলে বিশেষ করে সাংবাদিক ভাইেয়রা জানান।
ইউপি চেয়ারম্যানের এমন দেওয়া পোস্টকে ঘিরে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। পোস্টের কয়েক ঘন্টার পার হতেই হটাৎ রহস্যজনক ভাবে পোস্টটি ডিলিট করেন চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান।
নিয়োগপ্রত্যাশীদের গুনতে হয়েছে ৭হাজার ৪০০ টাকা থেকে ১৭হাজার টাকা পযর্ন্ত। আবেদনকারীদের ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলার বড়বিহানলী ইউপির আইয়ুব আলী স্বীকার করে বলেন,খাদ্য নিয়ন্ত্রকে ঘুষ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি কিছু টাকা ফেরতও দিয়েছেন।
একই ইউপির আবেদনকারী নাসির উদ্দীন জানান, নিয়ম অনুযায়ী তিনি আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পর খাদ্য নিয়ন্ত্রক নবী নওয়াজেস আমিন তার কাছে দশ হাজার টাকা করে ঘুষ দাবি করেন। পরবর্তীতে আবেদনকারীরা ৭হাজার ৪০০ টাকা ঘুষ প্রদান করেন খাদ্য নিয়ন্ত্রকে।
এ বিষয়ে বড়বিহানলী ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলাম ঘুষের বিষয়টি সঠিক।
পোস্টটি ফেসবুক থেকে সড়িয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, রাজশাহী সদর খাদ্য গোডাউনের কর্মকর্তা মাসুদ রানা ফেসবুক পোস্টটি সড়িয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন। তার অনুরোধে আমি ফেসবুকে দেওয়া পোস্ট সড়িয়ে ফেলি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হরে সদর খাদ্য গোডাউনের কর্মকর্তা মাসুদ রানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রিকুয়েষ্টের বিষয়টি সঠিক না ঘটনাটি বাগমারা আমার রিকুয়েষ্ট করার এখানে প্রশ্নই আসেনা।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নবী নওয়াজেস আমিন বলেন, ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগে ১২০টি আবেদন পড়ে। তিনি অস্বীকার করে বলেন, ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট আমি কারো কাছে থেকে কোন ঘুষ গ্রহণ করেনি।
এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার বিষয়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন বলেন কোন প্রকার ঘুষ নেওয়া হয়নি। বিধি বহির্ভূত কোন কিছু করা হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম আরো বলেন, এ বিষয়ে আপনি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সাথে যোগাযোগ করুন তিনি ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবে।
এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ওমর ফারুকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।





























