
ঈদ মানেই আনন্দ। তবে সেই আনন্দ সবার ঘরে সমানভাবে পৌঁছায় না। এই বাস্তবতা থেকেই প্রতি বছরের মতো এবারও দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে রোটারি ক্লাব অব ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ), ফতুল্লার সস্তাপুরে ক্যামব্রিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক মানবিক কার্যক্রমে প্রায় ৩০০ জন অসহায় নারী-পুরুষের মাঝে ঈদ সহায়তা বিতরণ করা হয়।
সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এ আয়োজনে ছিল এক ধরনের উৎসবের আবহ, তবে তা ছিল নিঃশব্দে ভাগাভাগি করা আনন্দের।
এ উদ্যোগটি রোটারি ক্লাব অব ফতুল্লার নিয়মিত প্রকল্পের অংশ। গত ১২ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে তারা এমন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। আয়োজনটির মূল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত এম এ মোতালেব হোসেন, যিনি শুরু থেকেই এই মানবিক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি রোটারি ক্লাব অব বাংলাদেশের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এবং রোটারি ক্লাব ফতুল্লার সাবেক প্রেসিডেন্ট।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট রহিমা শরীফ মায়া, জিসান সুরাইয়া, কবির হোসেন পারভেজ, শহীদুল ইসলাম বাপ্পী, ক্যামব্রিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন।
বক্তারা বলেন, মোতালেব সাহেবের ধারাবাহিকতা আমাদের অনুপ্রাণিত করে। অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো সত্যিই বড় কাজ। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষেরা এগিয়ে এলে দারিদ্র্য পুরোপুরি না কমলেও অনেক কষ্ট লাঘব করা সম্ভব।
সহায়তা নিতে আসা মানুষের কণ্ঠেও ছিল কৃতজ্ঞতা ও স্বস্তির সুর।
৬০ বছর বয়সী রমজান উদ্দিন বললেন, “আজকে আমরা নতুন লুঙ্গি পেলাম, খুব খুশি।”
বিধবা হাসিনা বেগম বললেন, “আমাদের কথা মনে রেখেছে কেউ, তাই ভালো লাগছে।”
প্রধানঅ অতিথির বক্তব্যে, এমএ মোতালেব বলেন, “মানবতার কাজ কখনো থেমে থাকা উচিত নয়। আমাদের চারপাশে যারা অসহায়, তারা প্রতিনিয়ত সাহায্যের অপেক্ষায় থাকে। আমি বিশ্বাস করি, আমরা ছোটভাবে হলেও তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি।
প্রত্যেক ঈদে দুস্থদের মুখে হাসি ফোটানো আমার কাছে শুধু আনন্দ নয়, এটি দায়িত্বও।
আমরা যখন সাহায্য করি, তখন শুধু তাদের সুখ দিই না, আমাদের নিজের মনও সমৃদ্ধ হয়।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে মানবিকতার বীজ বপন হয় এবং মানুষ শেখে একে অপরকে সহযোগিতা করতে।”




























