
মোঃ সাইফুল ইসলাম রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ছাত্রদলের পরিচয়ে আসা একদল যুবক নির্ধারিত পরিমাণের বেশি তেল না পেয়ে একটি ফিলিং স্টেশনে হামলা, মারধর ও তেল লুটের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় স্টেশনটির ম্যানেজারসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সাময়িকভাবে ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রূপগঞ্জের এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের কুশাবো এলাকায় অবস্থিত পূর্বাচল মডেল ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার (সকাল ১১টার দিকে) পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে পুনরায় চালু করা হয় স্টেশনটি।
ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার শাহীন জানান, সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারে অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছিল। এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমানের সহযোগী ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা আরমানের নেতৃত্বে ১০-১২টি মোটরসাইকেলে ১৫-১৬ জন যুবক সেখানে আসে। তারা নিয়ম ভেঙে বেশি পরিমাণে অকটেন দাবি করে।
কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করলে তারা উত্তেজিত হয়ে ম্যানেজার শাহীন, ক্যাশিয়ার সাকিবসহ কর্মচারী মোরশেদ, আব্দুল্লাহ ও সোহাগকে মারধর করে। এক পর্যায়ে তারা জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে অকটেন ভরে নিয়ে যায়, তবে কোনো টাকা পরিশোধ করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ করে দেওয়া হলে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা।
পরে বিষয়টি জানার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ হাসান সোহান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পুনরায় তেল সরবরাহ চালু করেন। এ সময় সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ হাসান ভূঁইয়া বলেন, তিনি শুনেছেন কিছু ব্যক্তি ছাত্রদলের পরিচয়ে তেল নিতে গিয়ে পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। পাম্পে তেল না থাকার কথা জানানো হলেও তারা তা মেনে নেয়নি এবং পরবর্তীতে ভাঙচুরে জড়িয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ছাত্রদলের কোনো অনুমোদিত কমিটি না থাকায় নাম ভাঙিয়ে কেউ এ ধরনের অপকর্ম করলে তাদের বিরুদ্ধে সংগঠন কঠোর অবস্থান নেবে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, হামলার ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে তেল সরবরাহে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সংকট না হয়।


























